নদীতে নামতেই কুমিরে টেনে নিয়ে গেল এক যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমার বৈদ্যনাথ গিরির ঘাটের কাছে কার্জনক্রিক নদীতে। মৃত যুবকের নাম সমরেশ খাঁড়া (৩৬)। বাড়ি পাথরপ্রতিমার ছোট রাক্ষসখালি এলাকায়। কিন্তু কর্মসূত্রে তিনি ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্র মোহনপুর এলাকায় জেঠুর বাড়িতে থাকতেন। পাথরপ্রতিমা রামগঙ্গা ফেরি সার্ভিসে তিনি কাজ করতেন। সোমবার তাঁর ছুটি ছিল। সেদিনই এই ভয়ানক ঘটনা ঘটে।
সূত্রের খবর, এদিন তিনি বৈদ্যনাথ গিরির ঘাটের কাছে নদীতে নেমে নৌকার কাছি একটি খুঁটিতে বাঁধছিলেন। সেই সময় হঠাৎ একটি কুমির এসে তাঁর পায়ে কামড় দিয়ে নদীতে টেনে নিয়ে চলে যায়। তখন সমরেশের কাছাকাছি থাকা লোকজনেরা ঘটনাটি দেখতে পান। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করে দেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তৎক্ষণাৎ তাঁরা একটি নৌকা নিয়ে কুমিরটিকে তাড়া করে। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে ওই এলাকার পুরো নদী তোলপাড় করে ফেলা হয়। শেষে একটি জঙ্গলের পাশে সমরেশের মৃতদেহ ভেসে ওঠে। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে পাথরপ্রতিমা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
একইদিনে কুনকি হাতি ও গন্ডারের লড়াইয়ে প্রাণ গেল হাতিকে দেখাশোনা করা মাহুতের সহযোগীর। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের নর্থ রেঞ্জের গভীর জঙ্গলে এই হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে। মৃত পাতাওয়ালার নাম প্রবীর দাস (২৬)। তার বাড়ি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া খাউচাদপাড়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, বনদফতরের পোষা হাতিদের ( এদের কুনকি হাতি বলা হয়) জন্য খাবার ( লতাপাতা) সংগ্রহ করে একটি কুনকি হাতির পিঠে চড়েই পিলখানায় ফিরছিলেন প্রবীর। রাস্তাতে জঙ্গলের ভেতরেই কুনকি হাতির সঙ্গে একটি গন্ডারের লড়াই বেঁধে যায়। সেসময় কোনভাবে পিঠ থেকে নীচে পড়ে যান প্রবীর। সেসময় গন্ডারটি ২৬ বছরের যুবক প্রবীরকে আক্রমণ করে। কাছেই অন্য আরও কুনকি হাতি থাকায় বিষয়টি অন্য কুনকি হাতিদের সঙ্গে থাকা পাতাওয়ালাদের নজরে পড়ে। দ্রুত জখম প্রবীরকে উদ্ধার করে মাদারিহাট হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় মাদারিহাট জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।