৩ মাসে তেল সংস্থাগুলি বিপুল মুনাফা করলেও আম জনতার সুরাহা নেই
বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জানুয়ারি-মার্চ, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি গত তিন মাসে ১৯,৪৭০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলেই সোমবার দাবি করল কংগ্রেস। তারই সঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুঁড়ল, এই মুনাফার কোনো লাভ কেন পাবে না আম জনতা? নরেন্দ্র মোদিকে ‘মেহেঙ্গাই মানব’ বলে কটাক্ষ করলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতি খাড়্গে হলেন খড়্গহস্ত। এভাবে ভোট মিটতেই লাগাতার পেট্রল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধিকে ‘ডাকাতি’ বলেই ব্যাখা করলেন তিনি। কংগ্রেসের যুব শাখা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে বলেই জানিয়ে দিল এআইসিসি। পশ্চিমবঙ্গ সহ চার রাজ্য আর কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে নির্বাচন মিটতেই গত কয়েকদিনে পরপর চারবার বাড়ল জ্বালানির দাম।
স্বাভাবিকভাবে পেট্রল, ডিজেলের দাম বাড়ায় বাড়ছে দুধ থেকে ড্রাই ফ্রুটস। ওল থেকে ঔষধ। টফি থেকে কফি। অথচ পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ যে ভারতে পড়তে পারে, আগেই সতর্ক করেছিলেন রাহুল গান্ধী। কানে তোলেননি মোদি। তাই সোমবার ফের পেট্রল, ডিজেলের দাম বাড়ায় রাহুল দাগলেন তোপ। কটাক্ষের সুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মন্তব্য, মেহেঙ্গাই মানব মোদিজি আবার আঘাত হানলেন। কিস্তিতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো চলছেই। যাতে চুপিসাড়ে পকেট কাটা চলতে থাকে। মেহেঙ্গাই মানব মোদিজির একটাই কাজ—নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া, আর বাকি সময় সাধারণ মানুষের পকেট কাটা। একইসঙ্গে খাড়্গেও সমালোচনার সুর চড়ান। বলেন, জ্বালানি লুট চলছে। ২০০৪-‘১৪, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৭৫.৩৪ শতাংশ বেড়েছিল। মোদি সরকারের আমলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়েনি। তাও পেট্রলের দাম ৪৩.০১ শতাংশ এবং ডিজেলের ৬৭.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১২ বছরে মোদি সরকার ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছে বলেই অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি।