• রাজগঞ্জে বিডিও অফিস থেকে সরানো হল প্রশান্তর নেমপ্লেট
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘বর্তমান’-এর খবরের জের। রাজগঞ্জে বিডিওর চেম্বার থেকে সরল প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট।

    গত জানুয়ারি মাসে প্রশান্ত বর্মনকে রাজগঞ্জের বিডিওর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দত্তাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে প্রশান্তর বিরুদ্ধে। বর্তমানে পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ তিনি। 

    এদিকে, পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চারমাস পরও আশ্চর্যজনকভাবে রাজগঞ্জ বিডিওর চেম্বারের বাইরে জ্বলজ্বল করছিল তাঁর নেমপ্লেট। কিন্তু কেন? তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। রাজগঞ্জে বিডিও থাকাকালীন নিজেকে ‘দাবাং’ বলে দাবি করতেন প্রশান্ত। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশকে কার্যত তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে নানা বিষয়ে পদক্ষেপ নিতেন। কিন্তু তারপরও জেলা প্রশাসনের বেশিরভাগ আধিকারিক তাঁকে ঘাঁটাতে চাইতেন না। এতটাই ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, চেয়ারে না থেকেও কি জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের অন্দরে কাজ করছিল প্রশান্তর কোনো প্রভাব? তা না হলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও কেন চারমাস ধরে রাজগঞ্জে বিডিওর চেম্বারে থেকে গেল তাঁর নেমপ্লেট? 

    এনিয়ে গত শনিবার খবর প্রকাশিত হয় ‘বর্তমান’-এ। এরপর সোমবার রাজগঞ্জ ব্লক অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দোতলায় বিডিওর চেম্বারের বাইরে থেকে প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এনিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল বলেন, দোতলায় বিডিওর চেম্বারের বাইরে থেকে নেমপ্লেট সরানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। তাঁর দাবি, আমি ওই চেম্বারে কোনোদিন বসিনি। জয়েন্ট বিডিও হিসাবে যে ঘরে বসে কাজ করতাম, বিডিওর দায়িত্ব পাওয়ার পরও সেখানে বসেই কাজ করে চলেছি।  রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির নিতাই মণ্ডল বলেন, বিডিওর চেম্বারের বাইরে এতদিন কেন প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট লাগানো ছিল, সেটাই প্রশ্ন আমাদের। প্রশান্ত বর্মন বিডিও থাকাকালীন রাজগঞ্জে প্রশাসনের অন্দরে অনেক অনিয়ম হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর। এনিয়ে আমাদের দলের বিধায়করা বলেছেন। আমরা চাই, প্রশান্ত বর্মনের সময়কালে রাজগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে যেসব কাজ হয়েছে, তার ফাইল খোলা হোক। কোন প্রকল্পে কত টাকা এসেছে, তা কোথায়, কীভাবে খরচ হয়েছে, আদৌও ঠিকমতো খরচ হয়েছে কি না, সবটা তদন্ত হওয়া দরকার। 

             বিডিওর চেম্বারে নেই প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট। 
  • Link to this news (বর্তমান)