• উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে ক্যান্টিন বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিন বরাদ্দকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের দ্বারস্থ হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সীমা রায়। তাঁর দাবি, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে একটি ক্যান্টিন চালিয়ে আসছিলেন। ওই ক্যান্টিন মূলত হাউস স্টাফ ও ইন্টার্নদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ক্যান্টিন সংস্কারের নাম করে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    অভিযোগ, সংস্কারের পর ক্যান্টিনের দায়িত্ব নতুন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেখানে সাধারণ মানুষেরও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমা রায়ের বক্তব্য, তাঁকে নতুন টেন্ডারের ব্যাপারে কোনোরকম লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সীমাদেবী বলেন, গত আগস্ট মাসে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই তৎকালীন ডেপুটি সুপার সুদীপ্ত মণ্ডল আমাকে ক্যান্টিন সরিয়ে নিতে বলেন। তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সংস্কারের পর আবার আমাকে বসার সুযোগ দেওয়া হবে। সেইমতো সমস্ত জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দেখি নতুন একজন সেখানে ক্যান্টিন চালাচ্ছেন। অথচ, এই ক্যান্টিন শুধুমাত্র ডাক্তারদের জন্য ছিল। এখন সবাই সেখানে খেতে যাচ্ছেন। আমাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন সরিয়ে দেওয়া হল, তার কোনও সদুত্তর পাইনি। সুবিচারের দাবিতে তিনি এবার বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন। এদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমেই ক্যান্টিন বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য মানতে নারাজ সীমা রায়। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের আরও একাধিক ক্যান্টিন দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার ছাড়াই চলছে এবং হাসপাতাল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার সহ বিভিন্ন সুবিধাও পাচ্ছে। সেইসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলেও শুধুমাত্র তাঁর ক্ষেত্রেই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।  উল্লেখ্য, আজ, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। বৈঠকে হাসপাতাল সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)