• যাচাই শুরু হতেই রাজগঞ্জে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে ভূতুড়ে জবকার্ডের সংখ্যা
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: যাচাই শুরু হতেই রাজগঞ্জে লাফিয়ে বাড়ছে ‘ভূতুড়ে’ জব কার্ডের সংখ্যা। অভিযোগ, এমন বহু ব্যক্তির নামে জব কার্ড রয়েছে, যাঁদের কোনো হদিশ নেই। ওই নামে কেউ কখনও এলাকায় ছিলেন কি না, তা বলতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই ওইসব ভূতুড়ে জব কার্ড তৈরি হয়েছিল?  

    নিয়ম অনুযায়ী, পরিবার পিছু একটিই জব কার্ড থাকার কথা। কিন্তু নামের তালিকা ধরে খোঁজখবর শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, একই পরিবারে একাধিক জব কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুয়ো জব কার্ড নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির নিতাই মণ্ডল। সোমবার রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমার বুথেই অন্তত দু’শো জব কার্ড হোল্ডারের নাম পেয়েছি, যাঁদের আমি চিনি না। ওইসব নামে এলাকায় কেউ কখনও ছিলেন বলেও মনে করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। যাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যাঁদের কেউ চিনতে পারছেন না, তাঁদের নামে জব কার্ড তৈরি হয়েছিল কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না। তাঁর তোপ, তৃণমূল নেতাদের ইশারায় এইসব ভূতুড়ে জব কার্ড তৈরি করে একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন অভিযোগও পাচ্ছি, তৃণমূল নেতাদের আত্মীয়দের নামে জব কার্ড তৈরি হয়েছে। যাঁরা একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কোনোদিন এক কোদাল মাটি কাটেননি। অথচ তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে টাকা। রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর জব কার্ড নিয়ে যাচাই শুরু করেছে প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত বিডিওকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে উপযুক্ত তদন্ত করতে হবে। ভুয়ো জব কার্ড তৈরির সঙ্গে কারা যুক্ত, খুঁজে বের করতে হবে তাঁদের। দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, কাউকে ছাড়ব না আমরা। যদি কোনো ভুয়ো জব কার্ড থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের নিশ্চয়ই তা নিয়ে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের রূপালি দে সরকার। তাঁর বক্তব্য, কোনো জব কার্ড হোল্ডারকে যদি এলাকায় খুঁজে পাওয়া না যায় কিংবা ওই নামে কেউ এলাকায় থাকতেন না বলে যদি জানা যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জব কার্ডটি বাতিল হওয়া দরকার। কিন্তু যাঁদের এলাকায় অস্তিত্বই নেই কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও যাঁদের চিনতে পারছেন না, তাঁদের নামে জব কার্ড তৈরি হয়েছিল কীভাবে? এনিয়ে রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির মন্তব্য, বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত দেখত। তাছাড়া জব কার্ড যখন তৈরি হয়েছে, তখন আমি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলাম না। ফলে সেক্ষেত্রে কী হয়েছে, বলতে পারব না। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজগঞ্জে প্রায় এক লক্ষ ১০ হাজার জব কার্ড হোল্ডার রয়েছেন। তাঁদের জব কার্ডের ই-কেওয়াইসি চলছে। এটা করতে গিয়েই ধরা পড়েছে গরমিল। ইতিমধ্যেই সন্দেহের তালিকায় থাকা জব কার্ডের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ১৭ হাজার।  রাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল বলেন, জব কার্ডে থাকা বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের আধার অথেন্টিকেশন করা হচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)