• অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই হতে চলেছে
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ, গঙ্গারামপুর: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি শুরু হয়ে গেল। আর একই দিনে গৌড়বঙ্গে পাকড়াও হওয়া ১৩ জন অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে সোমবার ৯ জনের ঠাঁই হল সেই সেন্টারে। পুলিশ সূত্রে খবর, মালদহের গাজোল থেকে ন’জন এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থেকে আটক করা হয়েছে চার জনকে। ধৃতরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি নাগরিক।

    মালদহ জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গাজোল থেকে যে ন’জন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের রাখা হয়েছে ইংলিশবাজারে হোল্ডিং সেন্টারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর থেকে ধৃত বাংলাদেশিদের পাঠানো হবে বালুরঘাটে অস্থায়ীভাবে তৈরি হওয়া সেই সেন্টারে। 

    অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট নীতি নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কিত যে নির্দেশিকা জারি করা হয়, সেখানেই হোল্ডিং সেন্টারের কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার তা কার্যকর করছে। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতদের ৩০ দিন রাখা যাবে হোল্ডিং সেন্টারে। এরমধ্যে নথিপত্র খতিয়ে দেখে সেই ব্যক্তি ভারতীয় কি না তা যাচাই করা হবে। এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। 

    গাজোলে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে যে ন’জনকে পাকড়াও করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন মহিলা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাদের নাম রানু বিবি, গোলাপি বিবি ও লাভলি বিবি। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ধরা পড়েছে চার নাবালিকা ও দুই নাবালক। ধৃতরা একই পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা। প্রত্যেকেই একই পরিবারের সদস্য। পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তারা ভারতে ঢোকে। সেখান থেকে মালদহে এসে গাজোলের পাণ্ডুয়া হাইস্কুল সংলগ্ন একটি সরকারি জায়গায় টিনের ছাউনির তলায় বসবাস করছিল তারা। ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। যা জাল বলে অনুমান পুলিশের। পুলিশি জেরায় ধৃত মহিলাদের দাবি, তাদের স্বামীরা এদেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছে। 

    এদিকে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে  গঙ্গারামপুরের সর্বমঙ্গলা এলাকা থেকে দু’জন, কুশমণ্ডি থেকে একজন ও বংশীহারি থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কয়েক বছর ধরে তারা অবৈধভাবে এদেশে বসবাস করছিল।

    অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে থাকতে পারবেন না। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, বাগবাড়ি এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে রাখা যাবে না। তাদের পুশব্যাক করা হবে। 

    অভিযোগ, গৌড়বঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেকেই ওপার থেকে অবৈধভাবে এদেশে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অনেকে আবার এখানে বিয়ে করে গড়ে তুলেছে আত্মীয়তা। দালাল ধরে ওইসব অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই জাল আধার কার্ডও বানিয়ে ফেলেছে।  

     মালদহে হোল্ডিং সেন্টার।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)