নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰাম জেলার গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী বিদ্যাসাগর বাণীভবন। লেডি অবলা বসুর হাত ধরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। এখানেই শিল্প শিক্ষিকা ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের মা সুপ্রভা রায়। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি তাঁতশিল্প, মাটির কাজ, নার্সিং ও চাষবাস শিখিয়ে অল্পবয়সি বিধবা মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিশা দেখিয়েছিল। কিন্তু, এখন সেটিই ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১৯৪০ সালে ঝাড়গ্ৰামে বিদ্যাসাগর বাণী ভবনের সূচনা হয়। বাংলার তৎকালীন গভর্নর স্যার জন হার্বাট এই ভবনের দ্বারোঘাটন করেছিলেন। শান্তিনিকেতন থেকে এসে ক্ষিতিমোহন সেন অনুষ্ঠানে বেদমন্ত্র পাঠ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাঠানো আশীর্বাণী সভাকক্ষে পাঠ করা হয়েছিল। লেডি অবলা বসুর হাত ধরে১৯১৯সালে বাংলায় নারী শিক্ষা সমিতির সূচনা হয়। অবিভক্ত বঙ্গদেশে ৮৮টি বালিকা বিদ্যালয় ও ১৪টি বয়স্কা শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন তিনি। এসমস্ত স্কুলে শিক্ষিকার অভাব পূরণে ১৯২২সালে কলাতায় বিদ্যাসাগর বাণী ভবন বিধবা আশ্রমের সূচনা করেন। এম. ই. স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা, হাতের কাজ, তাঁতবস্ত্র তৈরি, নার্সিং, কৃষিকাজ শেখার মাধ্যমে বিধবা মহিলাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নেওয়া হত। সুপ্রভা রায় ১৯৩৩ সাল নাগাদ শিল্পশিক্ষিকা হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পড়ানোর পাশাপাশি তিনি মাটির জিনিসপত্র তৈরি, সূচিশিল্পের কাজ শেখাতেন। সত্যজিৎ রায়ের একটি চিঠিতে তাঁর মায়ের ঝাড়গ্ৰামে থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঝাড়গ্ৰাম শহরের সাবিত্রী মন্দিরের কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখনো টিকে রয়েছে। ভবন চত্বরে বিদ্যাসাগর বাণীভবন বুনিয়াদি বিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত ভোকেশনাল কোর্সের পাঠকেন্দ্র ও প্রাথমিক শিক্ষিকা শিক্ষণ কেন্দ্র চলছে। কিন্তু প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে এসমস্ত প্রতিষ্ঠান ধুঁকছে। লেডি অবলা বসু ও সুপ্রভা রায়ের ভবনটি ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আঞ্চলিক গবেষক মধুপ দে বলেন, অল্পবয়সি বিধবাদের শিক্ষাদান ও স্বাবলম্বী করার কাজ করেছিলেন লেডি অবলা বসু। প্রখ্যাত চলচিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের মা এখানে শিল্প শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই কাজ ইতিহাস বইয়ে স্থান পায়নি।ঝাড়গ্ৰাম বিদ্যাসাগর বাণী ভবনের এক কর্ণধার বলেন, অবলা বসু ও সুপ্রভা রায়ের বাসভবনটি জরাজীর্ণ দশায় পড়ে রয়েছে। প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সহযোগিতা পেলে সংস্কার সহজ হবে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ নেওয়া হোক।-নিজস্ব চিত্র