সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ৩৩ বছর আগে বিজেপির হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার ফলস্বরূপ সিপিএমের হাতে মার খেয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। এত বছর পর নিজের দল রাজ্যে ক্ষমতায় আসায় ইন্দাসের কুশমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিমলচন্দ্র বোড়া বাড়ি ফিরলেন। দলের জন্য নিজের গ্রামের ছেলের আত্মত্যাগের কথা ভোলেননি ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া। তিনি বিমলবাবুকে স্বাদরে বরণ করেন। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা দেন।
বিমলবাবু বলেন, বাম জমানা শেষ হওয়ার পর বাড়ি ফেরার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসও একইভাবে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাতে আমার মতো প্রতিবাদী মানুষের টিকে থাকা মুশকিল হত। তবে এতদিন পর নিজের দল রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। সেই খুশিতে গ্রামে ফিরলাম। আমার দুর্দিনে যাঁরা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, আরামবাগের গোপীনাথপুরবাসীকে একেবারে ছেড়ে আসতে চাই না। তবে যে গ্রামে জন্মেছি। যেখানে বড়ো হয়েছি। দলের জন্য নির্বাচনি লড়াই লড়তে গিয়ে গ্রামছাড়া হয়েছি। সেই নিজের গ্রামের সঙ্গেও যোগাযোগ থাকবে।
ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মলবাবু বলেন, বাম আমলে বিজেপির হয়ে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁরা সিপিএমের বিষনজরে পড়েন। অনেকেই আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিমলবাবু আমাদের গর্ব। তিনি এতদিন বাদে গ্রামে ফিরেছেন। আমরা ভীষণ খুশি। তিনি গ্রামে থাকতে চাইলে তাঁর জন্য দল সবরকম সহযোগিতা করবে।
ইন্দাসের কুশমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিমলবাবু বরাবরই প্রতিবাদী স্বভাবের ছিলেন। সিপিএমের নানা অন্যায় মানতে না পেরে তৎকালীন সময়ে নেতাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিজেপির প্রতীকে ভোটে লড়েছিলেন। তখন ব্যালটের ঘেরাটোপে ছাপ্পার রাজত্ব ছিল। তাই তিনি হেরে যান বলে বিমলবাবুর অভিযোগ। ভোট মিটতেই সিপিএমের হার্মাদ বাহিনী তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করে। তিনি বাড়ি ছাড়া হন। এরপর দু’তিন বছর বিভিন্ন জায়গায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। এখানে সেখানে কাজ করেছেন। কিন্তু, থিতু হতে পারেননি। পরবর্তীকালে আরামবাগের গোপীনাথপুরে এক সহৃদয় ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করেন। তাঁর দেওয়া জমিতে বাড়ি করেন। সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। তাই গ্রামে আর ফিরতে পারেননি। বাম জমানা শেষ হওয়ার পর তিনি জন্মভূমিতে ফেরার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু ততদিনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে সিপিএমের মতোই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে থাকে। তা দেখে তিনি বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার আশা ত্যাগ করেন। তবে বর্তমানে নিজের দল ক্ষমতায় এসেছে। ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই গ্রামে আসেন। এদিন পুরনো সঙ্গীদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। বিমলচন্দ্র বোড়া। নিজস্ব চিত্র