• বীরনগরে প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেরুয়া আবির মেখে হামলা, ধৃত ২ দুষ্কৃতী
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রানাঘাট: গেরুয়া আবির মেখে ৯৩ বছরের বৃদ্ধ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল রানাঘাটের বীরনগরে। অভিযোগ, রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ প্রাক্তন চেয়ারম্যান নন্দদুলাল রায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপির বিজয় মিছিল যায়। এরপর সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ আচমকা গেরুয়া আবির মেখে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বৃদ্ধ নন্দদুলালবাবুকে রক্ষা করতে তাঁর ভাইয়ের বউ তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা আটকে দেন। ঘরে ঢুকতে না পেরে দুষ্কৃতীরা প্রবীণ নেতার ভাইপো ও ভাইঝিকে মারধর করে। তাঁদের চেঁচামেচির শব্দে পড়শিরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়।

    আক্রান্ত পরিবারের তরফে তাহেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের নাম পাপাই দাস ও পুচকা ভট্টাচার্য। তারা বীরনগরের ১৪নম্বর ওয়ার্ডের পালিতপাড়ার বাসিন্দা। আরো একজন পলাতক রয়েছে। ধৃতদের সোমবার রানাঘাট মহাকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সোমবার রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় নন্দবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্তরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিধায়ক বলেন, এলাকায় কোনো অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপির নাম ভাঙিয়ে যারা এধরনের কাজ করছে, তাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপির মিছিলের সুযোগ নিয়ে দলের বদনাম করার জন্য এটা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। তিনি পুলিশকে ঘটনার তদন্তে আরো তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।

    ১৯৫৭সালে নন্দবাবু রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮১-৯১সাল পর্যন্ত সিপিএমের হয়ে বীরনগর পুরসভার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১-২০০৯ সাল অবধি এই পুরসভায় কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১০সালে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৫সালে পুরনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। ২০২০সালের পর বয়সজনিত কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। নন্দবাবু বলেন, এলাকার কোনো দলের কর্মী বলতে পারবেন না যে,  মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াইনি। কিন্তু, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে প্রায় ৯৩বছর বয়সে আমাকে যা দেখতে হল, তা দুর্ভাগ্যজনক। একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে আমার পরিবারের লোকজনকে মারধর করল। তাঁর প্রশ্ন, শেষ বয়সে কি এটাই আমার প্রাপ্য ছিল?

    তবে বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় খবর পাওয়ামাত্র সবরকম সহযোগিতা করেছেন বলে নন্দবাবু জানান। তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে বিধায়ক বহুবার আমার ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর ব্যবহার ও সহযোগিতায় আমি আপ্লুত।

    তৃণমূলের বীরনগর শহর সভাপতি শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বীরনগরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় নন্দদুলালবাবুর বাড়িতে বিজেপি আক্রমণ চালিয়েছে। এখন তারা এঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলতে নানারকম যুক্তি দিচ্ছে। কিন্তু এঘটনার দায় বিজেপি এড়াতে পারে না। আমরা এর তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। আতঙ্কিত মানুষ ফের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় সত্যি বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।  প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিধায়ক। 
  • Link to this news (বর্তমান)