• গরম পড়তেই কালনার একাধিক ওয়ার্ডে পানীয় জলের সংকট
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কালনা: গরম পড়তেই কালনার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ব্যাপকভাবে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে তিনবার সময় করে পানীয় জল পরিষেবা দেওয়া হলেও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি ট্যাপ থেকে সুতোর মতো জল পড়ছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাতে সামান্য প্রয়োজন টুকুও মিটছে না। বাসিন্দাদের ক্ষোভ সামাল দিতে কিছু ওয়ার্ডে পুরসভার পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। পুরসভার দাবি, গ্রীষ্মের দাবদাহে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ায় কয়েকটি পাম্প দিয়ে পর্যাপ্ত জল না ওঠায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা পুরসভায় সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি হোল্ডিং রয়েছে। জনসংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে নাগরিকদের পানীয় জল পরিষেবার জন্য রয়েছে ২৭টি পাম্পিং স্টেশন ও চারটি জলাধার। এছাড়াও ভাগীরথী নদী থেকে জল তুলে রিজার্ভারের মাধ্যমে পানীয় জল পরিষেবা দেওয়া হয়। গরমে শহরজুড়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। ১, ২, ৫, ৬,১০, ১১ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপকভাবে পানীয় জলসংকট দেখা দিয়েছে। পুরসভা সকাল, দুপুর ও বিকেল মিলিয়ে ৭ ঘণ্টা পানীয় জল পরিষেবা দিলেও পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন নাগরিকরা। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উঁচু জাপট এলাকায় চারটি পানীয় জলের ট্যাঙ্কের গাড়ি দেওয়া হয়েছে।

    শহরের বাসিন্দা গুপিনাথ দাস, অনন্ত মোদক, জীবনানন্দ সাঁধুখা বলেন, জল পরিষেবা একদমই ঠিক নেই। সরু সুতোর মতো জল পড়ে। খাবারের জল কিনে খেতে হচ্ছে। পুরসভার উচিত অবিলম্বে পানীয় জল পরিষেবার দিকে নজর দেওয়া। পুরসভার চেয়ারম্যান রীনা বন্দ্যোপাধ্যায় জলসংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পানীয় জল পরিষেবার পাম্পিং স্টেশনের জলস্তর কমে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাম্প চালিয়ে জল না ওঠায় পাম্পের মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাগীরথী থেকে জল তুলে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পরিষবার প্রকল্পেও পলি সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আমরা ভাদুরিপাড়ায় একটি এয়ার পাম্পিং স্টেশন চালু করেছি। ঠাকুরপাড়া এলাকায় আরও একটির কাজ চলছে। এটি চালু হলে ৫, ৬, ১০ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে জল পরিষবার উন্নতি হবে। কয়েকটি এলাকায় পুরসভার পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)