জুনেই ১০০ দিনের কাজ চালু হবে রাজ্যে, নীতি বৈঠকে বঙ্গ, ফের যাচাই ওবিসি তালিকা
বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার বছর পর রাজ্যে চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ। জুন মাসেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ পেতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জবকার্ড হোল্ডাররা। পালাবদলের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় এই প্রকল্পের কাজ চালু করা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও সোমবার নবান্ন সভাঘরের প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল। কারণ, এদিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প দ্রুত চালু করার ব্যাপারে তৎপরতা আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, মুলত পাঁচ জেলায় দুর্নীতির অভিযোগে গোটা রাজ্যে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল রাজ্য। তবে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেই ক্ষেত্রে এই দুই জেলায় প্রকল্প চালু আগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার কথাও এদিনের বৈঠকে উঠে এসেছে বলেও জানা গিয়েছে। তেমন হলে এই দুই জেলায় প্রকল্প রূপায়ণের কাজ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছে প্রশাসনিক মহল। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের পরেও জেলায় এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। জবকার্ড হোল্ডারদের নাম ভোটার তালিকায় আছে কি না তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২৬ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে ওবিসি তালিকা পুনর্যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, পূর্বতন সরকারের আমলে মাত্র ১৫ দিনের সমীক্ষা চালিয়ে এই তালিকা তৈরি হয়েছিল। এবার এই সমীক্ষা চলবে অন্তত চার মাস ধরে। এদিন স্কুল পোশাক দুর্নীতি নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী ১১ জুন বসছে নীতি আয়োগের বৈঠক। বিগত সরকারের এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষিয়ে অনীহা থাকলেও, রাজ্যের বর্তমান সরকার এবিষয়ে চূড়ান্ত আগ্রহী। ফলে বৈঠকে যোগ দেবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে বেশকিছু প্রস্তাবও তুলে ধরা হবে। সেই কারণে রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বৈঠকে কী তুলে ধরা যায়, সেই বিষয়ে আগামী ৫ জুনের মধ্যে খসড়া প্রস্তাবও তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। এদিনের বৈঠকে দপ্তরের সচিবদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডাইরেক্টরদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। সেখানেই প্রতিটি প্রকল্প ধরে ধরে আলোচনা হয়। সেই মর্মেই উঠে আসে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের বিষয়টি। এই প্রকল্পের অন্তত ৫০ শতাংশ টাকা কেন্দ্রের থেকে আদায় করার লক্ষ্যে রাজ্য সেচদপ্তরকে নয়াদিল্লির সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে।
আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে ডবল ইঞ্জিন সরকার। যা পেশ করার আগে বিভিন্ন বণিকসভার কর্ণধারদের মতামত নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ জুন মিলন মেলা প্রাঙ্গণে নিয়োগ নীতি পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দুবাবু। ইতিমধ্যে, প্রতিটি দপ্তরে কত শূন্যপদ রয়েছে তা জানতে চেয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। ফলে শীঘ্রই রাজ্যে ব্যাপক হারে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে চাকরি দুর্নীতির মতো ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই যথেষ্ট সতর্ক শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই কারণেই আরো দৃঢ় নিয়োগ নীতি অবলম্বনের পথে রাজ্য হাঁটতে চলেছে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। আবার উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য অসমে না যেতে হয়, সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গে সাতদিনের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, রাজ্যের কোষাগারের হাল ফেরাতে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়া উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠক বাবদ খরচের হিসাব কষারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।