আরশোলাদের নিয়ে ভারতের প্রথম ‘ডিএনএ বারকোড লাইব্রেরি’, নজির জেডএসআইয়ের
বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের জীববৈচিত্র গবেষণায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রথম উপদ্বীপীয় ভারতের আরশোলাদের নিয়ে বৃহত্তম ‘ডিএনএ বারকোড রেফারেন্স লাইব্রেরি’ তৈরি করেছেন জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই)-এর বিজ্ঞানীরা। যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এতদিন পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে তার তুলনায় ভারতে আরশোলাদের বৈচিত্র আরও অনেক বেশি। এই গবেষণার এমন কিছু এই পতঙ্গের এমন কিছু স্বল্প পরিচিত, অজানা ও স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত গোষ্ঠীর হদিশ পাওয়া গিয়েছে,যা সারা বিশ্বেই বিরল।
সাধারণত আরশোলা সম্পর্কে প্রচুর ভুল ধারণা রয়েছে। এদের শুধুমাত্র ঘরে থাকা পতঙ্গ হিসাবে মনে করা হয়। আসলে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও বৈচিত্রময় এই পতঙ্গ জৈব পদার্থের পচন ঘটিয়ে, পুষ্টির পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বনাঞ্চলের খাদ্য শৃঙ্খলকে টিকিয়ে রাখে। এভাবে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আরশোলা। পরিবেশগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরশোলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। আর সেই কারণেই বাস্তুতন্ত্রের হাল কেমন, তা বোঝার অন্যতম নির্দেশক হল আরশোলা।
জেডএসআইয়ের পুনে ও চেন্নাই আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং পুনের প্রফেসর রামকৃষ্ণ মোরে কলেজের বিজ্ঞানীদের একটি দল এই গবেষণায় ১০০টিরও বেশি ডিএনএ বারকোড তৈরি করেছেন। এই ডিএনএ বারকোডিং একটি সুপারমার্কেট স্ক্যানারের মতো কাজ করে। তা অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে প্রজাতি শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই ডিএনএ বারকোডিং প্রযুক্তির সঙ্গে ট্যাক্সোনমির সমন্বয় ঘটিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিনের শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত জটিলতা দূর করেছেন। জেডএসআইয়ের ডিরেক্টর ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই গবেষণা আরশোলার মতো স্বল্প পরিচিত গোষ্ঠীগুলিকে নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ডিএনএ বারকোডিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। পুনে জেডএসআইয়ের প্রধান ডঃ বাসুদেব ত্রিপাঠী বলেন, ‘প্রজাতি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসাবে উঠে আসছে ডিএনএ বারকোডিং।’ পুনে জেডএসআইয়ের ডিএনএ বারকোডিং স্টাডিজের প্রধান ডঃ কে পি দীনেশ জানান, এই গবেষণা ভারতীয় উপদ্বীপীয় অঞ্চলের আরশোলাদের বৈচিত্র্যগত বিবর্তন এবং সম্ভবত প্রাচীন ‘গোন্ডোয়ানা’ ভূখণ্ডের জৈব-ভৌগোলিক সংযোগের মতো নতুন দিগন্ত তুলে ধরেছে। ছবি: জেডএসআই