• কুপিয়ে খুনে অভিযুক্ত দুই শ্রমিক, বাগমারিতে মদের আসরে মহিলাঘটিত বচসা?
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাগমারির কাছে লোহার চেন তৈরির কারখানায় খুন হলেন এক শ্রমিক। সোমবার সকাল দশটা নাগাদ অরূপ ঘোষ (৪০) নামের ওই কর্মীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় চেন পেঁচিয়ে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃতের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁর সহকর্মী অনুপ ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে আরও এক যুবককে। মদের আসরে বচসার জেরেই অরূপকে খুন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পিছনে মহিলাঘটিত কোনো বিষয় জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি কারখানা থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রীর বখরা নিয়ে কোনো গোলমাল হয়েছিল কি না, তাও জানার চেষ্টা করছেন পুলিশ অফিসাররা। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকতলা মেন রোড এলাকায় এই চেন তৈরির কারখানাটি ভাড়া নিয়ে চালান বিজয় চক্রবর্তী নামের এক যুবক। এখানেই কাজ করতেন অরূপ। চারদিন আগে ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কারখানার ভিতরেই একটি ঘরে থাকতেন অরূপ ও অনুপ। তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে কারখানা বন্ধ হওয়ার পর রান্না করতে বসেন অরূপ। অনুপ সেই সময় যায় মদ কিনতে। রাতে দু’জনে মদ্যপান করে। সেখানে অরূপের সঙ্গে অনুপের বচসা হয়। ঝামেলা চরমে উঠলে অনুপ কারখানার সামনে থাকা লোহার চেন অরূপের গলায় পেঁচিয়ে দেয়। তারপর ভারী কিছু দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। ফলে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন ওই যুবক। খুনের পর ঘরের দরজা বন্ধ করে এলাকা ছাড়ে অনুপ। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ ওই কারখানায় এক কর্মী কাজে এসে ঘরের দরজা খুলে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন অরূপ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন মালিককে। ভিড় জমে যায় কারখানার সামনে। বাড়ির মালিক খবর দেন নারকেলডাঙা থানায়। পুলিশ এসে অরূপকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, অনুপ ছাড়াও মদের আসরে আরও এক যুবক ছিল। নারকেলডাঙা এলাকা থেকেই অনুপ ও তার সঙ্গীকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অনুপ খুনের কথা স্বীকার করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক তরুণীকে কেন্দ্র করে মদের আসরে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। কিন্তু ওই তরুণীর সঙ্গে এই দুই যুবকের সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। সেকারণে মহিলাঘটিত বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তাছাড়া কারখানার মাল চুরি করার পর তার ভাগ নিয়ে গোলমালের জেরেও যুবক খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)