• গাড়ুলিয়া-উত্তর বারাকপুরে ভেঙে গেল তৃণমূল পুরবোর্ড, চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলারদের পদত্যাগ
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গত সপ্তাহে কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেছিলেন। সোমবার পদত্যাগ করলেন উত্তর বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ সহ ১৮ জন কাউন্সিলার। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। উত্তর বারাকপুর পুরসভার মোট ২৩টি ওয়ার্ড। তিনজন কাউন্সিলার প্রয়াত। বাকি ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৮ জন পদত্যাগ করলেন। তৃণমূলের টাউন সভাপতি সঞ্জীব সিং এবং আইনজীবী কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এখনও ইস্তফা দেননি। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এই পুরসভায়। একই অবস্থা গাড়ুলিয়া পুরসভার। এর আগে ১১ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছিলেন। এদিন চেয়ারম্যান রমেন দাস সহ বাকি আটজনও পদত্যাগ করলেন। গাড়ুলিয়ায় ২১ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৯ জনই তৃণমূলের। বাকি দু’জন নির্দল এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের। তাঁরা বাদে সকলেই পদত্যাগ করলেন। ফলে দু’জায়গাতেই ভেঙে গেল নির্বাচিত পুরবোর্ড। 

    বস্তুত, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বারাকপুর লোকসভা এলাকার বিভিন্ন পুরসভায় কার্যত পদত্যাগের হিড়িক চলছে তৃণমূল পুর-প্রতিনিধিদের মধ্যে। এই ধারাবাহিক পদত্যাগ ঠেকাতে তৃণমূলের তরফে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের কোথাও দেখা মিলছে না বলে খবর। কাউন্সিলাররাই  বলছেন, ‘পার্থবাবুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ এই আবহে বারাকপুরের মহকুমা শাসক যাদব আচ্ছেলাল সূর্যভান পুরদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, গাড়ুলিয়া, উত্তর বারাকপুর পুরসভায় অধিকাংশ কাউন্সিলারই পদত্যাগ করেছেন। ফলে পুরসভাগুলিতে বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগ করা হোক। 

    কেন পদত্যাগ করলেন? উত্তর বারাকপুর পুরসভার তিনবারের চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ বলেন, ‘নোয়াপাড়া বিধানসভায় জনমত আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। উত্তর বারাকপুর পুরসভাতেও আমরা হেরে গিয়েছি। মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়ে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।’ তবে অধিকাংশ কাউন্সিলার বিধানসভা ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের জন্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এবং পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’কে দায়ী করছেন। তাঁদের দাবি, নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু ‘আইপ্যাক’ যেভাবে সবাইকে পরিচালনা করেছে, তাতেই উলটো ফল হয়েছে। তাছাড়া এখন বিপদে দলের কোনো নেতা তাঁদের পাশে থাকছেন না বলেও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, এই দু’টি পুরসভা নোয়াপাড়া বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এখানে তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির অর্জুন সিং। তৃণমূল কাউন্সিলারদের পরপর পদত্যাগ সম্পর্কে অর্জুন বলেন, ‘পরাজয় মেনে নিয়ে চেয়ারম্যান, কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করছেন। আমরা সেখানে প্রশাসক বসানোর সুপারিশ করেছি। কারণ, মানুষ আমাদের জিতিয়েছে। তাদের পরিষেবা দিতে হবে।’ শিউলি ও মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেও একই কারণে অচলাবস্থা চলছে বলে জানান তিনি।  
  • Link to this news (বর্তমান)