• বিরোধী রাজনীতির শূন্যস্থান দখলে এবার মরিয়া সিপিএম, ব্যান্ডেলে হকার আন্দোলনে শামিল মীনাক্ষী
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির বিরোধী রাজনীতির পরিসরে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিপিএম। লাগাতার নানা কর্মসূচির আওতায় জনমত গড়তে সক্রিয় বাম দলটি। তাদের এই ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সোমবার ব্যান্ডেলে রেলের হকার ও রেলবস্তি উচ্ছেদের নোটিস ঘিরে বামেদের আন্দোলন ওই ইঙ্গিত আরো স্পষ্ট করেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যনেত্রী তথা হুগলির উত্তরপাড়ার বিধানসভা প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে সামনে রেখে এদিনের আন্দোলন করেছে বামেরা। রেলের পাশাপাশি বর্তমান রাজ্য সরকারকেও বিঁধেছেন বামনেত্রী। এদিন মিছিল করা নিয়ে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশের সঙ্গে সংঘাতেও জড়ান মীনাক্ষী। এটা আন্দোলনে বাড়তি মাত্রা জুড়েছে। ব্যান্ডেল রেল স্টেশনকে বিশ্বমানের এয়ারপোর্টের আদলে গড়ে তোলার কাজে নেমেছে রেলদপ্তর। আর সেই কারণে গত প্রায় দুবছর ধরে লাগাতার রেলবস্তি উচ্ছেদ থেকে হকারদের ব্যবসা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যান্ডেল স্টেশন ও রেলবস্তিতে ফের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। ২৮ মে-র মধ্যে জবরদখলকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। গত দুবছর ধরে ওই রকমের যাবতীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। বস্তি উচ্ছেদ রুখতে না পারলেও আন্দোলনে ছিল তৃণমূল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে এবার রেলের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। সেখানেই মীনাক্ষীর মতো সামনের সারির নেত্রীকে এনে আন্দোলনের সুর চড়িয়েছে সিপিএম। সেটা স্পষ্টতই হুগলির রাজনীতিতে নতুন বিরোধী পরিসর তৈরির দিশা দেখাচ্ছে। মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মীনাক্ষী এদিন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে হুগলি তথা বাংলায় গণআন্দোলন করতে দেয়নি তৃণমূল। রাজ্যের চারদিনের বিজেপি সরকারও পুলিশকে ব্যবহার করে সেই পথেই হাঁটছে। মানুষের রুজিরুটি কেড়ে শিল্পপতিদের হাতে রেলকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু পরিকাঠামো বাড়ালেই উন্নয়ন হয় না, মানবসম্পদের উন্নয়নও দরকার। আমরা হকারদের এবং বস্তিবাসীদের জন্য পুনর্বাসন চেয়েছি।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোমবারের আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সদ্য চন্দননগর পুরসভার বিরুদ্ধে নাগরিক কমিটির নামে আন্দোলনে নেমেছিল বামেরা। সেখানে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষকে সামনে রাখা হয়েছিল। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জেরে হুগলিতে তৃণমূল অনেকটাই ঘরে সেঁধিয়ে গিয়েছে। ফলত, বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে কার্যত শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই পরিসরকেই ভরাট করতে উদ্যোগী সিপিএম।  নিজস্ব চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)