কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’দিকে খাস জমি, জলাশয় এবং জলাভূমি দখলের অভিযোগ
বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ঝাঁ চকচকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এখন উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার নতুন গেটওয়ে। এই রাস্তার দু’দিকের জমি এখন সোনার চেয়েও দামি। বহুদিন ধরেই জমি হাঙরদের শ্যেন দৃষ্টি রয়েছে ওই জমির উপর। গত কয়েক বছরে একের পর এক জমি ভরাট করে গজিয়ে উঠেছে বড়ো বড়ো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ, হোটেল সহ নানা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ, তারমধ্যে সরকারি খাস জমি ও জলাও রয়েছে। তৃণমূল জমানায় খড়দহ ও পানিহাটি লাগোয়া বিশাল জলাশয় ও বিল ভরাট করে নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় তদন্ত চেয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও গ্রিন ট্রাইবুনালে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয়রা। যা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ, বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখলে আগের শাসকদলের মদত রয়েছে। প্রশাসনের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিমতায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নদীয়ার ছোট জাগুলিয়া পর্যন্ত ছয় লেনের নবনির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর শহরতলি তথা উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল বদল এনেছে। রাস্তা তৈরি শুরু হতে না হতেই দু’দিকের জমির দামও আকাশ ছুঁয়েছে। বহু জমি মাফিয়া ময়দানে নেমে জমি কেনা-বেচার চক্র চালাচ্ছে। তারমধ্যে রায়ত জমি যেমন রয়েছে, তেমনই সরকারি খাস জমিও রয়েছে। সম্প্রতি ওই খাস জমির দখল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক, বারাকপুরের মহকুমা শাসক ও গ্রিন ট্রাইবুনালে চিঠি দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবুর আদি বাড়ি সোদপুর হলেও তিনি বর্তমানে কল্যাণীতে থাকেন। তিনি বর্তমানে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, পানিহাটি ও খড়দহ এলাকায় জলাজমির ভিতর দিয়ে গিয়েছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। এই রাস্তার দু’দিকে প্রচুর সরকারি খাস জমি, জলাশয় ও জলা জমি রয়েছে। গত কয়েক বছরে জলা জমি ভরিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সহ বহু প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। যে জমিতে নির্মাণ হয়েছে, তা বিলকান্দা বিল নামে পরিচিত। ওই জমির সিংহভাগই খাস হওয়া জমি। এলাকার বাস্তুতন্ত্র ও জল নিকাশি ব্যবস্থার আধার এই জলাভূমি কীভাবে দখল হল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি খেপলির বিল লাগোয়া জলাশয় ও সরকারি জমিও দেদার ভরাট চলছে বলে অভিযোগ। পার্থবাবু বলেন, বিগত সরকারের আমলে অবাধে সরকারি জমি লুট ও জলাজমি ভরাট হয়েছে। তাই খড়দহ ও পানিহাটির জল নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’দিকে জমি কেনাবেচা চক্রে তৃণমূলের লোকজন জড়িত। অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে চিঠি দিয়েছি।
বারাকপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশী বলেন, গত কয়েক বছরে বেআইনি জমি দখলের অভিযোগ পাওয়ামাত্র প্রশাসনিকভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেআইনি দখল বন্ধ করা হয়েছে। তার বাইরেও বেআইনি দখল হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। সরকারি জমি দখল ও জলাজমি বোজানো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। যারা এসব কাজে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।