এসআইআর পর্বে দেওয়া জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র যাচাই: রিপোর্ট দিতে আরও সময় চায় পুরসভা
বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর পর্বে যে জন্ম এবং মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক সার্টিফিকেটের তথ্য কীভাবে যাচাই করা সম্ভব? সোমবার কলকাতা পুরসভার তরফে স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এত দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি শংসাপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ নয়, এক শীর্ষ আধিকারিকের অফিস এই যাচাই প্রক্রিয়ার কাজ সামলাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যব্যাপী জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের কেন্দ্রীয় পোর্টালের একাংশ। রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের এই কেন্দ্রীয় পোর্টাল ২০২১ সালে চালু হয়েছিল। রাজ্যের সর্বত্র জন্ম এবং মৃত্যুর তথ্য এই পোর্টালে আপলোড করা হয়। এর মাধ্যমেই ডিজিটাল সার্টিফিকেট মেলে। কিন্তু, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বুধবার থেকে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের সেই পোর্টাল আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ‘রেগুলার’ কেসে অর্থাৎ নতুন যাঁরা জন্মাচ্ছে বা মারা যাচ্ছেন, একমাত্র পোর্টালে তাঁদের ডেটা এন্ট্রি করা যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারই ওই ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাবে। কিন্তু পুরানো সার্টিফিকেট ডিজিটাল করা কিংবা আগে জন্ম হয়েছে বা মারা গিয়েছেন, কিন্তু শংসাপত্র নেওয়া হয়নি, তাঁরা এখন আবেদন করলে আপাতত শংসাপত্র পাবেন না। হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট কপিও দেওয়া হচ্ছে না। পোর্টালে সেই অপশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ আসে, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ এসআইআর কালে যত জন্ম এবং মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি নতুন করে যাচাই করা হবে। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ২৫ মে গতকাল সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু পুরসভার সূত্রে খবর, এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রত্যেকটি শংসাপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে।
পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, যেহেতু স্বাস্থ্যবিভাগ এই সার্টিফিকেট দিয়েছে, ফলে পুর-স্বাস্থ্য বিভাগও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের স্ক্যানারে রয়েছে। তাই এই যাচাই প্রক্রিয়া পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের আধিকারিকদের দিয়ে করানো হচ্ছে না। পুরসভার অন্যতম এক শীর্ষ আধিকারিকের অফিস সেই কাজ করছে। তার জন্য তাঁদের আলাদা প্রশিক্ষণও দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর।