নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একের পর এক নেতার গ্রেপ্তারিতে থরহরিকম্প দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের অন্দরে। কারণ, এখনও পুলিশের নজরে রয়েছেন একাধিক নেতা-কর্মী। এবার কার পালা, তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন অনেক নেতাই। পুরানো হিংসা, হুমকি, মারধরের ঘটনা নিয়ে বিজেপি এবং অত্যাচারিত অনেক মানুষ বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন নতুন করে। ফলে প্রায় প্রত্যেকেই কখনও না কখনও ডাক পাচ্ছেন থানায়। ইতিমধ্যে এলাকার একাধিক দাপুটে তৃণমূল নেতা হাজতে গিয়েছেন। এই অবস্থায় আগামী দিনে কী হতে চলেছে, তা ভেবে বহু গ্রামীণ এলাকার নেতাদের উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ থেকে ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের এক পঞ্চায়েত উপপ্রধান—সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এমন অনেক ওজনদার নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিগত ১০-১৫ বছরে যাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল, তাঁদের অনেককে ইতিমধ্যে হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গোসাবা, বাসন্তী থেকে শুরু করে সোনারপুর, বিষ্ণুপুর প্রভৃতি এলাকায় কোথাও না কোথাও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর আরও সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। এলাকায় সমাজবিরোধী হিসাবে কুখ্যাতি আছে, এমন অনেককেই ‘টার্গেটে’ রেখেছে থানাগুলি। এমনকি, সেই তালিকায় নাম রয়েছে বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়কেরও।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক নবনির্বাচিত বিধায়ক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচের জন্য আবেদন করেছেন। যেমন, ক্যানিং পশ্চিমের পরেশরাম দাস ও বিষ্ণুপুরের দিলীপ মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, পুরানো মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এখন রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙড়ে গত পঞ্চায়েত নির্বাচন ও তার পরবর্তী সময়ে যেসব অশান্তির ঘটনায় এফআইআর হওয়ার পরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, সেই অভিযুক্তদের অনেকেই এখন এলাকাছাড়া। জেলযাত্রার ভয়ে কেউ আবার ঘরবন্দি করে নিয়েছেন নিজেকে। এখানেই শেষ নয়! জানা গিয়েছে, বাসন্তীর এক দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে এনআইএ। তিনিও পুলিশের নজরে রয়েছেন। বারুইপুর, কুলতলি, জীবনতলার একাধিক তৃণমূল নেতার সম্পর্কে পুলিশ খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।