গত ডিসেম্বরে বিয়ের বিদাই অনুষ্ঠানে ত্বিষা শর্মার পরিবারের কাছ থেকে শাশুড়ি গিরিবালা সিং ২ লাখ টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রদেশে মডেল-অভিনেত্রীর মৃত্যুরহস্যের তদন্তে নেমে তাঁর পরিবারের অভিযোগ যথেষ্টই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় তদন্তাকারী সংস্থা যে এফআইআর রুজু করেছে, তাতে প্রাক্তন বিচারক গিরিবালার নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ত্বিষার পরিবারের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই এফআইআর-এ।
ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিংয়ের পুলিশকে দেওয়া কিছু বয়ানও এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, সমর্থ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর সঙ্গে ত্বিষার সম্পর্ক নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই ঝগড়া হতো তাঁদের মধ্যে। কিন্তু ত্বিষাকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা কখনও ঘটেনি। দাম্পত্যকলহ আরও তীব্র ত্বিষার ভাইয়ের বিয়ের সময় থেকে। নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ত্বিষার গর্ভবতী হওয়া এবং পরে গর্ভপাতের বিষয় নিয়ে।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, জেরায় সমর্থের দাবি, তিনি বাবা হতে চাইতেন। কিন্তু ত্বিষা তা চাইতেন না। ত্বিষার জোর করে গর্ভপাত করিয়েছেন। সমর্থের এই দাবি যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে ত্বিষার কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও রয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব মেসেজে ত্বিষার বক্তব্য, তাঁর গর্ভবতী হওয়া এবং সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সমর্থ। সিবিআই সূত্রে খবর, সমর্থ দাবি করেছেন, ত্বিষার বাইপোলার ডিজ়অর্ডার ছিল। যখন-তখন তাঁর মেজাজ বদলে যেত। এর জন্য তাঁকে চিকিসকের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সমর্থ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সিবিআইয়ের এফআইআর তাদের হাতে এসেছে। সোমবার দায়ের হওয়া সেই এফআইআর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ত্বিষা এবং সমর্থ সিংয়ের বিয়ে হয়েছিল। তার পর থেকে পণ নিয়ে ত্বিষার উপর নানা রকম ভাবে নির্যাতন চলে বলে অভিযোগ। মডেল-অভিনেত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেন শ্বাশুড়ি গিরিবালা এবং স্বামী সমর্থ।
এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের বিদাইয়ের অনুষ্ঠানে ত্বিষার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চেয়েছিলেন গিরিবালা। তাঁদের দাবি মেনে ওই পরিমাণ টাকা দেওয়াও হয়েছিল ত্বিষার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে। তা সত্ত্বেও ত্বিষাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। তার ভিত্তিতেই গিরিবালা এবং তাঁর ছেলে সমর্থের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং পণের জন্য হেনস্থার মামলা রুজু হয়েছে। ত্বিষার মৃত্যুর পর ১০ দিন পলাতক ছিলেন সমর্থ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। পরে এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টও এই মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করেছে।