Big Breaking: গ্রেপ্তার রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন ( Former BDO Prashanta Burman Arrested) । সোমবার রাতে নিউ টাউন থেকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক হন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। নিউ টাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে ( Newtown Businessman Murder Case) অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। চার মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি, পুলিশও তাঁর নাগাল পাচ্ছিল না। কিন্তু সোমবার রাতে যা ঘটে তা একেবারেই চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা। গ্রেপ্তারও হলেন সোমবার রাতের ঘটনাতেই। আজ বারাসত আদালতে তোলা হবে প্রশান্তকে।
মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। বারাসত কোর্টে তোলা হবে এ দিনই। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায়। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় বিধাননগর গোয়েন্দা বিভাগ। কারণ তাদের হাতেই রয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলার তদন্তভার।
রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিটি সেন্টার ২-এর সামনে দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মন। ( West Bengal Crime News Updates) তার আগে নিউ টাউনের একটি বারে দেদার মদ্যপান করেছিলেন বলে অভিযোগ। মদ্যপ প্রশান্ত গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে আর গতির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি বলেও অভিযোগ। নিউ টাউনের সিটি সেন্টার ২ লাগোয়া রাম মন্দিরে যাওয়ার রাস্তায় আচমকাই এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। পালানোর চেষ্টা করলেও পারেননি। পথচারী ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। এর পরে রাতেই ইকো পার্ক থানায় তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতভর থানাতেই ছিলেন। আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করার অভিযোগ ওঠে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উত্তরবঙ্গে তাঁর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনা কিনেছেন ওই ব্যবসায়ী— এই সন্দেহে স্বপনকে অপহরণ করে নিউ টাউনের এবি ব্লকের ৬৭ নম্বর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেন প্রশান্ত ও তাঁর সঙ্গীরা। এর পরে ২৯ অক্টোবর বাগজোলা খালপাড়ের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ৩১ তারিখ নিহতের পরিবার ওই বিডিও ও তাঁর কয়েক জন সঙ্গীর বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় একেবারে শুরুতেই বিডিওর গাড়ির চালক রাজু ঢালি ও উত্তরবঙ্গের এক ঠিকাদার তুফান থাপাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তদন্তভার নেয় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা দপ্তর। তারা বিডিওর ঘনিষ্ঠ কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার ও তাঁর গাড়িচালক বিবেকানন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার করে।
খুনের মামলায় পুলিশ প্রশান্তর গাড়ির চালক-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করতেই ওই ঘটনায় প্রাক্তন বিডিও–র যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। যদিও সে সময়ে নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন নেন প্রশান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ হাইকোর্টে গেলে কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। প্রশান্ত সুপ্রিম কোর্টে যান। সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে সারেন্ডার করতে বলে। তার পরেই হঠাৎ কোথায় যেন উধাও হয়ে যান তিনি! পুলিশও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিল না। কিন্তু সোমবার এক পথচারীর সাহসিকতাই হাত কড়া পরিয়ে ছাড়ল প্রশান্তর হাতে।
বিডিও পদে প্রশান্ত বর্মনের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০১৮ সালের ব্যাচের অফিসার তিনি। তবে নম্বর কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে এই পদ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে এই খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একাধিক বার তিনি নিজের বদলি আটকে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। ইংরেজিতে শূন্য পেয়ে এবং পরীক্ষায় পাশ না করে তাঁর বিডিও হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে ন’বছর আগে দায়ের করা মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।