কেদারনাথ-অযোধ্যার পর এবার লক্ষ্য বৈষ্ণোদেবী মন্দির, পায়ে হেঁটে নতুন স্বপ্নপূরণের যাত্রায় যুবক
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
এই তীব্র গরমে যখন সবাই দ্রুত ঘরে ফিরতে চাইছেন, তখন খনি অঞ্চলের এক যুবক পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়লেন দীর্ঘ যাত্রায়। পায়ে হেঁটে প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সংকল্প নিয়েছেন তিনি। ৪৫ দিনের মধ্যেই এই যাত্রা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে অন্ডালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন বাবন বাউরি। লক্ষ্য জম্মু কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী মন্দির। স্রেফ মনের জোর আর অদম্য আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এক দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় পা বাড়িয়েছেন তিনি।
অন্ডাল থানার খান্ডারার বাসিন্দা, ২৮ বছর বয়সী বাবন বাউরি। খান্দরা বাস স্ট্যান্ড থেকে তাঁর এই যাত্রার সূচনা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব ধাপে ধাপে পার হয়ে বিভিন্ন রাজ্য পেরিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছবেন বৈষ্ণো দেবীর দরবারে। পরিবারের কথায়, ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণ এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি বাবনের গভীর টান থাকলেও, তাঁর এই যাত্রার উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বর্তমান যুবসমাজের কাছে একটি বিশেষ ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ।
আজকের দিনে বহু তরুণ নানা কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন। বাবন তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চান, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে যেকোনও দুর্গম পথ জয় করা সম্ভব। দীর্ঘ যাত্রায় রওনা দেওয়া সেই যুবক বাবনের কথায়, মানুষ চাইলে নিজের মনের জোরে অনেক কঠিন কাজও করতে পারে। আমি চাই যুবসমাজ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুক এবং জীবনের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাক।
বাবন বাউরির এই অদম্য সাহসী পদক্ষেপ দেখে এলাকার যুব সমাজ অনুপ্রেরণা পাবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই কারণে যাত্রা শুরুর সময় এলাকার অনেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হন। এছাড়াও যাত্রা পথে তাঁর সুবিধার জন্য শুকনো খাবার, জল, অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন অনেকে। আর সকলের এই উৎসাহ সঙ্গী করে নিজের যাত্রা সম্পন্ন করতে চান যুবক। উল্লেখ্য, পায়ে হেঁটে দূরপাল্লার যাত্রা বাবনের জন্য প্রথম নয়। এর আগে তিনি মাত্র ৩৪ দিনে কেদারনাথ, ১৫ দিনে অযোধ্যার রামমন্দির এবং মাত্র ৪০ ঘণ্টায় মায়াপুর-নবদ্বীপ পায়ে হেঁটে পৌঁছে নজির গড়েছিলেন। অন্যদিকে, পড়াশোনা শেষ করে বাবন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।