• 'একটু বাঁচতে চাই...'! দিন-রাত কম্পন, দেওয়ালে ফাটল! কালনায় স্পিড ব্রেকারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ প্রবীণ দম্পতির জীবন
    News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
  • : একটা স্পিড ব্রেকার। আর সেই স্পিড ব্রেকার ঘিরেই গত এক বছর ধরে কার্যত দুর্বিষহ জীবন কাটছে এক বৃদ্ধ দম্পতির। দিন-রাত বাড়ি কেঁপে উঠছে, দেওয়ালে দেখা দিচ্ছে ফাটল, রীতিমতো উড়ে গিয়েছে রাতের ঘুম। বহুবার প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়ার পরেও মেলেনি কোনও স্থায়ী সমাধান। শেষমেশ প্রতিবাদের পথই বেছে নিলেন তারা। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে কালনা মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি।

    ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার অন্তর্গত মধুপুর এলাকার বর্ধমান-কালনা মেইন রোড সংলগ্ন। ওই এলাকার বাসিন্দা কাশীনাথ চ্যাটার্জী ও তাঁর স্ত্রী অণিমা চ্যাটার্জী অভিযোগ, তাদের বাড়ির ঠিক সামনেই তৈরি করা হয়েছে একটি বড় স্পিড ব্রেকার বা গতিরোধক। আর সেই স্পিড ব্রেকারের উপর দিয়ে সারাদিন-সারারাত ভারী যানবাহন যাতায়াত করার সময় প্রবল শব্দ ও কম্পনে কেঁপে উঠছে গোটা বাড়ি। বৃদ্ধ দম্পতির দাবি, প্রথমদিকে বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা ভেবেই সহ্য করেছিলেন তারা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে শুরু করে। বাড়ির দেওয়াল, গ্যারেজ-সহ একাধিক অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে এই অবিরাম শব্দ ও কম্পনের ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়ছেন তারা।

    এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অণিমা চ্যাটার্জী বলেন, “আমাদের বাড়ির সামনে যে স্পিড ব্রেকার আছে, সেটা তোলার জন্য আমরা এক বছর ধরে সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনও সুরাহা পাইনি। আমার মনে হয় পার্টিগত কারণেই ওই স্পিড ব্রেকার তোলা হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী কাশীনাথ চ্যাটার্জীর বয়স প্রায় ৭২ বছর। ইতিমধ্যেই কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখেও পড়েছেন তিনি। অণিমাদেবীর কথায়, “ওনার তিন-চারবার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। এখন ঘুমোতে, বসতে, শুতে খুব কষ্ট হয়। সারাক্ষণ বাড়ি কাঁপছে। ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ালেও ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না।” কথা বলতে বলতেই যেন আবেগে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধা। তিনি বলেন, “পাঁচ-দশ মিনিট হলে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এই অবস্থা চলছে। আমরা তো একটু বাঁচতে চাই। যদি এই চাওয়াটাই অপরাধ হয়, তাহলে প্রশাসন সেটা বলে দিক।” অন্যদিকে কাশীনাথ চ্যাটার্জীও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “রাতের পর রাত ঘুমোতে পারছি না। বাড়িতে কম্পন হচ্ছে, ফাটল ধরছে। এই সমস্যা নিয়ে এডিএম, ডিএম, এমনকি নবান্ন পর্যন্ত জানিয়েছি। সবাই শুধু বলেছেন ‘দেখছি’। কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি।”

    তাঁর অভিযোগ, গত ১৮ মে মহকুমা শাসকের দফতরে গেলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আর আসতে হবে না, খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তারপরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই সোমবার আবার মহকুমা শাসকের দফতরে হাজির হন তারা। এদিন তীব্র গরম উপেক্ষা করেই গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দফতরের সামনে অবস্থান করেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “মহকুমা শাসক আমাদের বাঁচান”। সেই দৃশ্য ঘিরে রীতিমতো ওই চত্বরে কৌতূহলও তৈরি হয়। পাশাপাশি এদিন তারা একটি লিখিত অভিযোগও জমা দেন মহকুমা শাসকের দফতরে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট এলাকায় আধিকারিকদের পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন একটাই, প্রশাসনের তদন্ত ও আশ্বাসের পর আদৌ কি স্বস্তি ফিরবে ওই বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে? নাকি দিনের পর দিন কম্পন আর আতঙ্ক নিয়েই কাটাতে হবে জীবনের শেষ বয়স? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)