লাল মাটির অঞ্চলের ছেলে বরফের চূড়ায়! অ্যাডভেঞ্চারের নেশাই তাঁর পেশা
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
: ছোটবেলা থেকে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা। সেই থেকেই শুরু। আজ সেই নেশাই হয়ে উঠেছে জীবনের পরিচয়। পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর থানার অন্তর্গত রামকানালি গ্রামের বাসিন্দা মিলন চ্যাটার্জী বর্তমানে পাহাড় জয়ের এক অনন্য নজির গড়েছেন।
ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন পাড়ার একটি নেচার ক্যাম্পে প্রথম রক ক্লাইম্বিং প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকেই পাহাড়কে ভালবাসা এবং মাউন্টেনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু। এর পর দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে দেশের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাউন্টেনিয়ারিং করে চলেছেন মিলন। অর্জন করেছেন একাধিক সাফল্য ও সম্মান।
একসময়ের শখই আজ তাঁর পেশা। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় প্রফেশনাল মাউন্টেনিয়ারিং ও রক ক্লাইম্বিং প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা পেলেও নিজের ঝুঁকিপূর্ণ পেশা এবং সাফল্যের কথা মায়ের কাছে কখনও সেভাবে তুলে ধরতে পারেননি বলেই জানান মিলন। তবে তাঁর এই অ্যাডভেঞ্চার জীবন প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শেখায় তাকে।
সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত মাউন্ট হোয়াইট জয় করে নতুন সাফল্যের পালক যোগ করেছেন তিনি। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে শুধু নিজের নয়, পুরুলিয়ার নামও উজ্জ্বল করেছেন এই যুবক। তার সঙ্গে ছিল একটা গোটা টিম। তারা একসঙ্গে এই জয় অর্জন করেছেন।
মিলন চ্যাটার্জী বলেন, নিজের জীবনে তিনি বহু শৃঙ্গ জয় করেছেন। অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে তাঁর। এই স্মৃতিগুলোই চিরকাল তাঁর মনের মণিকোঠায় আবদ্ধ থাকবে।
পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন যারা এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার করতে চায়, তারা যেন অতি অবশ্যই সমস্ত সেফটি দিকে নজর রেখে অ্যাডভেঞ্চারে আনন্দ উপভোগ করে। কারণ জীবন বাজি রেখে প্রতিনিয়ত অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। তাই সেখানে সেফটি সবার আগে। আগামিদিনেও নিজের স্বপ্নকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান মিলন চ্যাটার্জী। তার এই সাফল্যে গর্বিত গোটা জঙ্গলমহল।