• হোল্ডিং সেন্টারে বাড়ছে ভয়? বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক হাকিমপুর সীমান্তে, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘পালাও’
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতেই আবার বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক। গত বছর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে যে ছবি দেখা গিয়েছিল, সেই একই ছবি দেখা গেল মঙ্গলবারও।

    বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি টিভিতে দেখলাম। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব আমরা?’

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর চেকপোস্টে জড়ো হন শতাধিক পুরুষ-মহিলা। তাঁরাই নিজেদের বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সরকার-প্রশাসন তাঁদের আর ভারতে রাখতে চাইছে না। তাই তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। তাঁরা চান, বিএসএফ যাতে তাঁদের ওপারে ফিরিয়ে দেয়।

    হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ কেউ জানান, তাঁরা অনেক বছর ধরেই ভারতে রয়েছেন। কেউ তিন বছর, কেউ আবার পাঁচ বছর। এক প্রৌঢ়া বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এখানে থেকেছি। আমার বাড়ি খুলনায়। সরকার আর চাইছে না। তাই চলে যাচ্ছি।’ মধ্যবয়সি আর এক যুবকের কথায়, ‘পাঁচ বছর আগে এসেছিলাম। রঙের কাজ করতাম এখানে। এ বার আর এখানে থাকার সাহস পাচ্ছি না। তাই চলে যাচ্ছি।’

    গত বছর ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘোষণা হওয়ার পরেও একই ভাবে হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হয়েছিল বহু বাংলাদেশি। সেই সময়েও তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা অবৈধ ভাবেই এ দেশে প্রবেশ করেছেন। সেই এসআইআর প্রক্রিয়া মেটার পরে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। সরকার গড়েছে বিজেপি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অবৈধ ভাবে প্রবেশকারী বাংলাদেশি, রোহিঙ্গারা তো বটেই, যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তাঁরাও অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বিবেচিত হবেন। প্রথমে তাঁদের আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। ঘটনাচক্রে, তার পরেই আবার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক দেখা গেল।

  • Link to this news (এই সময়)