• পালাবদলের পর রাজ্যে বেড়েছে বুলডোজার-এর চাহিদা
    আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর বেড়েছে বুলডোজারের চাহিদা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালকদের আয়, মুখে ফুটছে চওড়া হাসি। সরকার পরিবর্তনের পর হঠাৎই যেন এক লাফে বেড়ে গিয়েছে বুলডোজারের চাহিদা।

    আদতে যন্ত্রটির নাম 'জেসিবি মেসিন' হলেও সাধারণ মানুষের কাছে যন্ত্রটি পরিচিত 'বুলডোজার' নামে। এই ভারী যন্ত্র মূলত রাস্তা নির্মাণ, পুকুর খনন কিংবা বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই যন্ত্র। 

    ফলে একদিকে যেমন কাজের চাপ বেড়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে চালকদের আয়ও। বুলডোজার চালক ও মালিকদের দাবি, অতীতে যেখানে প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া মিলত, বর্তমানে সেই পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টাপ্রতি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

    যদিও ডিজেল ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে, তবুও বাড়তি ভাড়ার কারণে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ থাকছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

    চালকদের একাংশের কথায়, আগে মূলত রাস্তা সংস্কার, জমি সমতল করা কিংবা পুকুর খননের কাজেই বুলডোজার ব্যবহার হত। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনিক অভিযানে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ বাড়ায় দিনের পাশাপাশি রাতেও কাজ করতে হচ্ছে বহু চালককে। ফলে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।

    শুধু প্রশাসনিক কাজেই নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বুলডোজারের ব্যবহার নজর কেড়েছে। বিজেপির একাধিক র‍্যালি ও কর্মসূচিতে প্রতীকীভাবে বুলডোজারের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ‘বুলডোজার রাজনীতি’র প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে আধুনিক এই মাল্টি-ওয়ার্ক যান এখন রাজ্যের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নতুন মাত্রায় সক্রিয়।

    রাজনৈতিক পালাবদলের পর বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে বুলডোজারের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনই বদল এসেছে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আর্থিক সমীকরণেও।

    বুলডোজার চালক বিকাশ সর্দার জানান, এখন নাওয়া খাওয়ারও সময় নেই। দিন-রাত সব সময় কাজ হচ্ছে। তাই আগের থেকে এখন অনেকটাই ভালো অবস্থা। আর এর মধ্য দিয়েই যেন রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙ্গার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই জেসিবি।
  • Link to this news (আজকাল)