• বিডিও থেকে খুনের আসামী! অবশেষে গ্রেপ্তার প্রশান্ত
    আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছিল আগেই। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। একটি খুনের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অবশেষে কলকাতার রাস্তা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির সময়েও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন এই অপসারিত সরকারি কর্মকর্তা। অভিযোগ, গত রাতে কলকাতার রাস্তায় মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। বেপরোয়া গতির কারণে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁর গাড়ি। এই ঘটনার পরই পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে আটক করে। খুনের মামলার পাশাপাশি মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। 

    তবে এর পরেও প্রশান্তের আচরণে কোনও বদল দেখা যায়নি! ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় রীতিমত অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছেন প্রশান্ত। পাশাপাশি নিজের আইফোন বের করে ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও করে নিয়ে হুমকি দেন তিনি। স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, দেশের সর্বোচ্চ আদালতও তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। তবে সেই নির্দেশ এড়িয়ে এতদিন পলাতক ছিলেন এই প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক। এমনকি পুলিশের সাম্প্রতিক চার্জশিটেও তাঁকে 'ফেরার' বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। 

    দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর অবশেষে কলকাতার নিউটাউনের রাস্তায় হদিস মিলল সেই পলাতক প্রাক্তন বিডিও-র। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি দামী কালো গাড়িতে বসে রয়েছেন প্রশান্ত বর্মন। ভিডিয়োকারীকে বাধা দিয়ে তিনি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ করার হুমকি দিতে থাকেন। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রশান্ত মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারেন। ধাক্কার তীব্রতায় ওই পথচারী ছিটকে এসে ভিডিয়োকারীর স্কুটারের ওপর পড়েন। আর তাতেই পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে তাঁর। এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ওই ব্যক্তি প্রশান্তর গাড়িটি আটকে এই ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।

    প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির পরেই জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি মুখপাত্র শ্যাম প্রসাদ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বলেছেন, "তৎকালীন তৃণমূল সরকার পুলিশকে লেজে গোবরে গুটিয়ে রেখেছিলেন। অষ্টম শ্রেণী উত্তীর্ণ একজনকে প্রশাসনিক পদে বসিয়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক ব্যানার্জীর হাতে অবৈধ উপায়ে চুরির টাকা পৌঁছে দিতেন। একজন খুনের মামলায় আসামী হওয়ার পরেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।

    রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। পাশাপাশি প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির পর জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের গ্রেপ্তারি কেবল সময়ের অপেক্ষা। মনে করা হচ্ছে, জলপাইগুড়ি ও ধুপগুড়ি নাগরিক মঞ্চের তরফে প্রশান্ত বর্মনের এই গ্রেপ্তারি যেন নতুন করে জেলায় বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের শায়েস্তা করার সূচনা মাত্র।

    অন্যদিকে, গোটা বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আইন আইনের পথে চলবে। এই বিষয় নিয়ে কোনরকম মন্তব্য তাদের তরফে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষ তাকিয়ে রয়েছে, রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো জলপাইগুড়ি জেলা জুড়েও যে অবৈধ নির্মাণ এবং কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা, তাঁরা দ্রুত তাঁদের কর্মফল ভোগ করবেন। 
  • Link to this news (আজকাল)