কাকলিকে নিয়ে বড় কথা জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী!
আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় পালাবদলের পর একের পর এক বেনজির ছবি। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুভেন্দুর বৈঠক শুরুর আগেই বৈঠকে হাজির হয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাকলি বলেন, “আমন্ত্রণ পেয়েছি, তাই এসেছি। প্রশাসনটা কারও একার নয়, এটা কোনও দলীয় সভাও নয়।” কিন্তু কাকলির উপস্থিতি রীতিমতো জল্পনা তৈরি করেছএ বাংলার রাজনৈতিক মহল।
আর কাকলির উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু এ প্রসঙ্গে বলেন, ''বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। আজ যেমন বারাসতের সাংসদকে ডেকেছি। আমাদের তো ডাকা হত না। আগে দক্ষযজ্ঞ চলত। কোটি কোটি টাকা খরচ হত প্রশাসনিক বৈঠকে। আমরা যতটা না করলেই নয়, ততটাই খরচ করছি। আমরা বিরোধীদের ডাকব।''
মঙ্গলবার সকালে কাকলি কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে হাজির হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিজেপিতে পা বাড়ানোর জল্পনা বাড়তে থাকে। তাহলে কি আজই ফুলবদল কাকলির? যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তাঁর কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সঙ্গে কোনও দলীয় যোগাযোগ নেই। এটি নেহাতই প্রশাসনিক কর্মসূচি। সেই কারণেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
মূলত, এদিন কল্যাণীতে তিন জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায়-নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা। এই তিন জেলার পর্যালোচনায় প্রশাসনিক বৈঠক। সাংসদ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপস্থিত হয়েছেন সেই হিসেবেই, দাবি তেমনটাই। যদিও গত কয়েকদিন ধরেই, কাকলির একাধিক পদক্ষেপ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট জল্পনা বাড়াচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি তাঁকে লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো দিনে পাশে থাকার স্মৃতি উসকে দিয়েছিলেন। তারপরেই, বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে রইস্তফাও দিয়েছেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিলই, রবিবার সেই জল্পনা বাড় একয়েকগুণ। মধ্যমগ্রামে দলের জেলা কার্যালয়ে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আনেন। এরপরই শুভেন্দুর বৈঠকে কাকলির হাজির হওয়া নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে গেল নিঃসন্দেহেই।