• সিবিএসই-র উত্তরপত্র ‘ভুল’ দাবি করতেই ‘পাকিস্তানি’ তকমা! বোর্ড ভুল মানলেও ট্রোলিংয়ের শিকার পড়ুয়া
    প্রতিদিন | ২৬ মে ২০২৬
  • দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া বেদান্ত শ্রীবাস্তব। সবে মাত্র বহির্পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে তার। কিন্তু এখনই যেন সমাজের কালো দিকটা তার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল। বেদান্তর দাবি ছিল, পদার্থবিদ্যার যে উত্তরপত্র তার বলে দেখানো হচ্ছে, সেটা আদৌ তার নয়। তার পোস্ট ভাইরাল হতেই ট্রোলিংয়ের শিকার হতে তাকে। জোটে ‘পাকিস্তানি’ তকমাও! যদিও পরে সিবিএসই-র তরফে জানানো হয়েছে, বোর্ড এই ভুলের জন্য দুঃখিত।

    গত ১৩ মে সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশিত হয়। বেদান্ত দেখে সে পদার্থবিদ্যায় খুবই কম নম্বর পেয়েছে। এরপর নিজের উত্তরপত্রটি দেখতে চেয়েছিল সে। বোর্ডের তরফ থেকে পাঠানো উত্তরপত্রে হাতের লেখা দেখেই সে বুঝতে পারে, এটা আদৌ তার পরীক্ষার খাতাই নয়। সে এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখে, ‘সারা বছর পড়াশোনা করলাম। ঘুম, মনের শান্তি, ঘুরতে যাওয়া সব কিছু পরীক্ষার জন্য ত্যাগ করেছিলাম। আর এখন আমি বুঝতে পারছি না, আমার আসল পরীক্ষার খাতাটা কোথায় গেল। পড়ুয়াদের কি এটাই প্রাপ্য?’

    এরপরই সে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়। তাকে ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানি’র মতো নানা অভিধায় ‘ভূষিত’ করে নেটপাড়ার একাংশ। যদিও অনেকে তাঁকে সমর্থনও করেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মোদি-শাহ জুটি আরও একটা সংস্থাকে চুরির প্রতীক বানিয়ে ফেলেছে। গত কয়েক দশকে এই প্রথমবার সিবিএসই পরীক্ষা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠছে। ১৭ বছরের একটা বাচ্চা তার কম নম্বর পাওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলছে, আর বিজেপির আইটি সেল তাকে দেশবিরোধী তকমা দিচ্ছে। তবে মোদিজী শুনে রাখুন, এই জেন জি-র তরুণরাই আপনার অহংকার ভাঙবে।’

    এদিকে সিবিএসই-র তরফে বেদান্তকে জানানো হয়েছে, এই ভুলের জন্য তারা দুঃখিত। সেই সঙ্গেই নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন, ”আমরা আজ বেদান্ত শ্রীবাস্তবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এবং ইমেলের মাধ্যমে তাঁকে সঠিক উত্তরপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছি। সেই অনুযায়ী তাঁর নম্বর পুনর্বিবেচনা করা হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)