• ‘পুলিশ দিয়ে বলপূর্বক জিমখানা ক্লাব দখল নয়’, মামলা হাই কোর্টে যেতেই জানাল কেন্দ্র
    প্রতিদিন | ২৬ মে ২০২৬
  • পুলিশ দিয়ে বলপূর্বক দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাব দখল করা হবে না। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টে একথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তবে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, লিজের চুক্তির শর্ত মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। নোটিস দেওয়ার পর আইন অনুযায়ীই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে সরকারের তরফে।

    দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাবকে উচ্ছেদের নোটিস ধরিয়েছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়, দেশের রাজধানীর সংবেদনশীল এবং কৌশলগত এলাকার মধ্যে ওই ক্লাবটি রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ওই জমির প্রয়োজন রয়েছে। যার জেরে ৫ জুনের মধ্যে ক্লাবের ২৭.৩ একর জায়গা সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। পালটা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, কেন্দ্র উচ্ছেদের নোটিস পাঠালেও কোনও কারণ দর্শানো হয়নি।

    এই অবস্থায় মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের কাছে আদালতের তরফে জানতে চাওয়া হয়, ৫ জুন কি কেন্দ্রের তরফে ওই ক্লাবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে? জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, “বলপূর্বক কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। সেক্ষেত্রে জমি খালি করার জন্য ক্লাবকে নতুন করে নোটিস দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফে অন্য কোথাও ক্লাবকে জমি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। ক্লাবকে জমি খালি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশ ব্যবহার করে জোরপূর্বক খালি করানোর কোনও প্রশ্ন নেই।”

    উল্লেখ্য, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ১৯১১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লি আনার সিদ্ধান্ত নেন রাজা পঞ্চম চার্লস। সেই সময় ব্রিটিশ আধিকারিকদের আমোদ-প্রমোদের জন্য তৈরি হয় ক্লাবটি। ১৯১৩ সালে চালু হয় জিমখানা ক্লাব। ক্লাবটির নকশা তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টি রাসেল। কমান্ডার ইন-চিফ’স রেসিডেন্সের নকশাও তাঁর হাতে তৈরি। পরে যা হয়ে ওঠে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বাসভবন।

    জানা যায়, এই ক্লাবে সুইমিং পুল তৈরির জন্য ১৯৩০ সালে ২১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন খোদ ভাইসরয়ের স্ত্রী লেডি উইলিংটন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে একে অপরকে বিদায় জানান শিখ, হিন্দু, মুসলিম বাহিনীর অফিসারেরা। বর্তমানে এই ক্লাবে যাতায়াত দেশের বড় বড় আমলা, কূটনীতিবিদ, সামরিক প্রধান-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। সদস্য সংখ্যা ১৪ হাজারেরও বেশি। ৫০০-র বেশি কর্মী রয়েছেন ক্লাবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)