গোপন ডেরায় টাকার পাহাড়! উদ্ধার হাজার হাজার ত্রাণের ত্রিপল, গ্রেপ্তার বাদুড়িয়া পুর-চেয়ারম্যান
প্রতিদিন | ২৬ মে ২০২৬
পুলিশের জালে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। দিনভর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও সেমবার রাতে শেষমেশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। উদ্ধার কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ টাকা ও হাজার হাজার সরকারি ত্রিপল। রাতেই তাঁর বাড়িতে যায় টাকা গোনার মেশিন। সূত্রের খবর, প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে পুর চেয়ারম্যানের ‘গোপান ডেরা’ থেকে।
সোমবার রাতে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দেখতে পান, দীপঙ্করের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কার্যালয়ের সামনেই স্তূপ করে আগুন লাগিয়ে পোড়ানো হচ্ছিল সরকারি কাগজপত্র। সন্দেহ হতেই স্থানীয়রা খবর দেন বাদুড়িয়া থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এলাকা ছাড়েন।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পার্টি অফিস ও বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় রাতেই। সেই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল। অভিযোগ, দুর্যোগে বিপন্নদের জন্য বরাদ্দ ত্রিপল অবৈধভাবে মজুত করে রেখে ছিলেন বাড়িতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এরপরই দীপঙ্করের বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরেই ঘটনা নতুন মোড় নেয়।
সোমবার রাতে পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়ির ঠিক পাশের একটা কম্পিউটার সেন্টারে হানা দেয় পুলিশ। সেই কম্পিউটার সেন্টার থেকেই উদ্ধার হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, ওই কম্পিউটার সেন্টারের চাবি চেয়ারম্যানের কাছেই থাকত। আর সেই কেন্দ্র থেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিপুল টাকা গোনার জন্য গভীর রাতে তিনটি টাকা গোনার মেশিন আনা হয়। সূত্রের খবর, প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে পুর চেয়ারম্যানের ‘গোপান ডেরা’ থেকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বাদুরিয়ার এসডিপিও, ওসিআই। যেহেতু চাবির নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যানের হাতেই ছিল, তাই উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কীভাবে সেখানে এল, এর সঙ্গে কারা যুক্ত এবং সরকারি নথি পোড়ানোর উদ্দেশ্যই বা কী, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।