• ‘নতুন সরকার ব্যবস্থা নেবে’, ১৩ বছর পর ফের খোলার পথে কামদুনি ফাইল! মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘আশা’ নির্যাতিতার পরিবারের
    News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের ১৩ বছরের পর ফের খুলছে কামদুনি গণধর্ষণের ফাইল? গতকালই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ‘‘সারা পশ্চিমবঙ্গবাসী চায় কামদুনির ফাইল খুলুক।” শনিবার কামুনির নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন জানালেন, ‘‘নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনেক প্রত্যাশা, আশা৷’’ জানালেন, নতুন সরকার ব্যবস্থা নেবে, আশা রাখেন তাঁরা৷

    কামদুনি গ্রামে মৃত তরুণীর অসমাপ্ত বাড়ি রয়েছে৷ সেই বাড়ির পাশেই নির্যাতিতার জ্যেঠুর বাড়ির৷ তাঁর জ্যেঠতুতো দাদা এবং জ্যেঠি সন্ধ্যা ঘোষ জানালেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই ওদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন, আইনি লড়াই করেছি৷ আগামীদিনেও লড়াই চালাব৷ গত সরকার অনেক কিছুই ঠিক করেনি, তাদের আইনি পরিষেবা ঠিকমত ছিল না৷ আমাদের অনেক আশা নতুন সরকারের কাছে৷ আমরা আশা রাখি, সরকার ব্যবস্থা নেবে৷’’

    প্রসঙ্গত, কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনকাণ্ড নিয়ে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য গতকালই দাবি করেন, ‘‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক কারণে ব্লক ভোটের স্বার্থে তদন্তের রিপোর্ট সাজানো হয়েছিল। বিচারপতির সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    তিনি আরও বলেন, কামদুনির ঘটনায় যারা সত্যিই জড়িত ছিল, তাদের পরিচয় ও অপরাধ কোনও ধর্ম বা উপাসনা পদ্ধতির ভিত্তিতে নয়, শুধুমাত্র অপরাধের নিরিখেই বিচার হওয়া উচিত।

    বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার তাঁদের কাছে এসে নতুন করে সুবিচারের আবেদন জানিয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি ফের সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ”দলের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কামদুনির অপরাধীরা রেহাই পাবে না। রাজ্যের মানুষ দোষীদের কঠোর শাস্তি চায়।”

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি এলাকায় কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন কামদুনির মহিলারা। ঘটনার পর তৎকালীন রাজ্য সরকারের ভূমিকা, পুলিশি তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছিল। কামদুনির প্রতিবাদ আন্দোলন সেই সময় বাংলার অন্যতম বড় গণআন্দোলনে পরিণত হয়। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)