প্রকৃতির রক্ষার বিরুদ্ধে এক অনন্য লড়াই বন দফতরের। গাছের বিনাশ এবং ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই আরও বড় পরিসরে চালাল বনবিভাগ। অবৈধ কাঠ চেরাই কলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বন দফতর। টানা অভিযানে খাতড়া মহকুমা এলাকায় দুটি কাঠমিল সিল করে দেওয়া হয়েছে। বনদফতরের দাবি, প্রয়োজনীয় বৈধ নথি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে মিল দু’টি চালানো হচ্ছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রশাসনের এই অভিযানের পর অবৈধ কাঠ ব্যবসা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে খাতড়ার আড়াকামা এলাকায় একটি কাঠমিলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে আধিকারিকরা মিলের কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবেই চলছিল ওই মিল। এরপর খড়বন মোড় সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি কাঠ চেরাই কলে হানা দেয় বন দফতর। সেখানেও একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ায় মিলটি সিল করে দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় দুটি মিল থেকেই কাঠের গুঁড়ি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে দাবি, আড়াকামা এলাকার মিলটি এলাকার এক প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বলে পরিচিত। অন্যদিকে, খড়বন মোড় এলাকার কাঠমিলটি স্থানীয় এক ঠিকাদারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। বনদফতরও এখনও পর্যন্ত মালিকানা বা রাজনৈতিক যোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
অভিযানে বন দফতরের পাশাপাশি খাতড়া থানার পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বন দফতর। কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কাঠ চেরাইয়ের কাজ চলছিল, তার নেপথ্যে আর কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে খুশি স্থানীয় মানুষজন ও পরিবেশপ্রেমীরা।