বর্ষার আগেই প্লাবন রুখতে মালদহে বিশেষ উদ্যোগ প্রশাসনের। গঙ্গার জলে ভাসবে না আর স্বপ্নের ফসল। কালিয়াচকের শোভাপুর খালে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ক্রস বাঁধ। বর্ষা এলেই মালদহের কালিয়াচক ৩ ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকায় গঙ্গার বাড়তি জলে প্লাবিত হত হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি। বিশেষ করে শোভাপুর খাল দিয়ে গঙ্গার জল ঢুকে শোভাপুর, কুম্ভীরা, কৃষ্ণপুর, শিবপুর ঘাট, ৩ ও ৪ নম্বর কলোনি, পারলালপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখে পড়ত।
এর জেরে প্রতি বছর ধান, পাট, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তেন কৃষকরা। এবার সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় উদ্যোগ নিল সেচ দফতর। তাই বর্ষার আগেই প্লাবন রুখতে গঙ্গা ও শোভাপুর খালের মাঝখানে ক্রস বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শুকনো মরশুমকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতিতে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক কৃষক বলেন, “প্রায় ১৫০০ একর কৃষিজমি প্রতি বছর প্লাবনের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাঁর কথায়, গঙ্গার জল শোভাপুর খাল দিয়ে ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ত। স্বপ্ন ভেসে যেত জলের তোড়ে। নতুন এই ক্রস বাঁধ নির্মাণ হলে বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এদিন বৈষ্ণবনগর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক রাজু কর্মকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সূচনা করেন। বিধায়ক রাজু কর্মকার জানান, “এই বাঁধ তৈরি হলে সমস্যা মিটবে কৃষকদের। ভাঙন, বন্যার ফলে ফসলি জমি নষ্ট হত।
বিধায়ক বলেন, ইতিমধ্যে পাঁচ জায়গায় ক্রস বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। এবার কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন তাঁরা। কৃষকদের আশা, এই বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে বর্ষায় আর গঙ্গার জল ফসলি জমিতে ঢুকে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হবে না। ফলে সুরক্ষিত থাকবে কৃষিজমি ও বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা চাষের স্বপ্ন।