রেশন-পেনশন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশাসনের এক 'চালে' প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে গেল সব সুবিধা
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে চালু হওয়া এক সপ্তাহব্যাপী “জন ভাগিদারি অভিযান – সবসে দূর, সবসে পহেলে” কর্মসূচির সাফল্য ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোনথাম। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত জেলার ২০ টি ব্লকে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা জেলায় মোট ১৩২টি স্যাচুরেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় এবং এতে অংশ নেন ১ লক্ষ ১২ হাজার ৫৯ জন মানুষ। মূলত আদিবাসী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচির মাধ্যমে জাতি শংসাপত্র, আধার কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, রেশন পরিষেবা, পেনশন প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা-সহ একাধিক পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে।
পাশাপাশি সিকেল সেল স্ক্রিনিং ও টিবি পরীক্ষার মত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্যোগও নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জেলাশাসক সুধীর কোনথাম বলেন, এই অভিযানে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর একযোগে কাজ করেছে। প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ বৈঠক, ব্লক স্তরে নোডাল অফিসার নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় পরিকল্পনার ফলে কর্মসূচি সফল হয়েছে। জন ভাগিদারি অভিযান” শুধু সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে।
কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন দফতরের যৌথ উদ্যোগ, প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ বৈঠক এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান তিনি। অংশগ্রহণের নিরিখে মানবাজার-২ ব্লক সর্বাধিক সাড়া পেয়েছে। এছাড়াও কাশীপুর, হুড়া, বান্দোয়ান ও বলরামপুর ব্লকেও ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এই পরিষেবার মধ্য দিয়ে। সবমিলিয়ে অনেকেই বলছেন, এক সপ্তাহব্যাপী জন ভাগিদারি অভিযান কর্মসূচির সাফল্য ও বিভিন্ন পরিষেবা সাড়া ফেলে দিয়েছে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায়।