• "সব রোজগারের পথ বন্ধ, কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না", মাঝরাতের বিধ্বংসী ঝড় পথে বসাল ব্যবসায়ীকে
    News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
  • রাতভর বিধ্বংসী কালবৈশাখী ঝড়ের পর সকালেও তাণ্ডব অব্যাহত থাকল। প্রবল ঝড়ে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেজপুরা গ্রামে শতবর্ষ প্রাচীন একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে চুরমার হয়ে যায় চারটি কাঁচা বাড়ি ও একটি মুড়ির মিল। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ওই বাড়িগুলির বাসিন্দারা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার, গভীর রাত থেকেই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। সকালেও একইভাবে তীব্র ঝড়ের দাপট বজায় থাকে। সেই সময় শ্মশান মন্দিরের পাশের পুরনো বটগাছটি ভেঙে পড়ে পাশের চারটি বাড়ি ও একটি ক্ষুদ্র মুড়ির মিলের উপর। গাছের প্রচণ্ড আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে যায় বাড়িগুলি এবং ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে মুড়ির মিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মুড়ি মিলের মালিক কাশীনাথ দাস।

    আরও পড়ুন Narendrapur Fire: নরেন্দ্রপুরের কালি কারখানায় বিধ্বংসী আগুন, চারদিক ঢেকেছে ঘন কালো ধোঁয়ায়! বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন

    তিনি জানান, প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ করে মিলটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, “ঝড় আমার সব রোজগারের পথ বন্ধ করে দিল। এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।” আর এক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক স্বাগী দাস বলেন, “বাড়ির চারজন ঘুমিয়ে ছিলাম। আচমকাই ঝড় ওঠে এবং প্রথমে কাঁচের ডালপালা ভেঙে পড়ে। কোনরকম ভাবে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচি। এখন বাড়ির সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। কিভাবে কি করব কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।”

    ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় পরিবারগুলি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দুরবস্থা এতটাই চরম যে অনেকেই শুকনো মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। রান্না করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কালবৈশাখীর এই তাণ্ডবে বেজপুরা গ্রামে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)