• ‘রাতে ঘুম আসে না, ঘুমের ওষুধ খেতে হয়’, ফাইল খোলার আশায় কী বললেন কামদুনির নির্যাতিতার মা?
    News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
  • ফের খোলার পথে কামদুনি ঘটনার ফাইল? ১৩ বছর পেরিয়ে গিয়েছে কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার৷ রাজ্যে সরকারের পালাবদল হওয়ার পর এই ঘটনায় সুবিচারের আশায় বুক বাঁধছে নির্যাতিতার পরিবার৷ এবার নির্যাতিতার মা জানালেন, ‘‘আমাদের অনেক আশা অবশ্যই আরজিকরের মত আমাদের ফাইলও খুলবে’’৷

    কামদুনি গ্রাম থেকে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ১২ কিলোমিটার দূরে এক অন্য গ্রামে চলে যায় নির্যাতিতার পরিবার৷ নির্যাতিতার মা জানালেন তাঁদের আশা এই ঘটনার ফাইল ফের খুলবে৷

    দোষীদের আড়াল করেছিল তৃণমূল সরকার, অভিযোগ জানিয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘সব সময় মেয়ের কথা মনে পড়ে৷ রাতে ঘুম আসে না৷ ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোই৷ আগের সরকার দোষীদের আড়াল করেছিল৷ কারণ তারা তৃণমূল ছিল৷ শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য আমাদের উকিল দিয়ে সাহায্য করেছে৷ আমাদের অনেক আশা অবশ্যই আরজিকরের মত আমাদের ফাইলও খুলবে৷ যারা ছাড়া পেয়েছে প্রত্যেকের শাস্তি হোক৷’’

    এই ঘটনার তীব্র আন্দোলনের দুই মুখ হয়ে ওঠেন টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল৷ নতুন সরকারের উপর সুবিচারের আশা রাখছেন তিনিও৷ মৌসুমি বলেন, ‘‘গত সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ৷ শুভেন্দু অধিকারী আমাদেরকে অতীতে আইনি সহায়তা করেছে৷ আমাদেরকে বোন বলে সম্মান দিয়ে লড়াই চালাবে বলেছিল ৷ এখন এই সরকারের কাছে আমাদের অনেক আশা৷ আমরা আশা রাখি প্রকৃত দোষীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে৷’’

    কামদুনি গ্রামে মৃত তরুণীর অসমাপ্ত বাড়ি রয়েছে৷ সেই বাড়ির পাশেই নির্যাতিতার জ্যেঠুর বাড়ির৷ তাঁর জ্যেঠতুতো দাদা এবং জ্যেঠি সন্ধ্যা ঘোষ জানালেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই ওদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন, আইনি লড়াই করেছি৷ আগামীদিনেও লড়াই চালাব৷ গত সরকার অনেক কিছুই ঠিক করেনি, তাদের আইনি পরিষেবা ঠিকমত ছিল না৷ আমাদের অনেক আশা নতুন সরকারের কাছে৷ আমরা আশা রাখি, সরকার ব্যবস্থা নেবে৷’’

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি এলাকায় কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন কামদুনির মহিলারা। ঘটনার পর তৎকালীন রাজ্য সরকারের ভূমিকা, পুলিশি তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছিল। কামদুনির প্রতিবাদ আন্দোলন সেই সময় বাংলার অন্যতম বড় গণআন্দোলনে পরিণত হয়। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)