• মহাবিহারের বাইরে দেওয়ালে খোদিত স্টাকো মূর্তি, মোগলমারির নেপথ্যে ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন, বয়ে চলেছে অগাধ ইতিহাস
    News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
  • ভারতবর্ষ তার প্রাচীনত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একাধিক স্থাপত্য বয়ে চলেছে এককালের ইতিহাস। বাংলা ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া অত্যন্ত প্রাচীন ক্ষেত্র দন্তপুর বা দাঁতন। ২০০২-০৩ সালে প্রথম খননে একটি মাটির ঢিবি থেকে আলোকিত হয় বৌদ্ধবিহার। দাঁতন থানার মোগলমারী এলাকায় এই বৌদ্ধ বিহার ক্রমে পরিচিতি লাভ করে। বইয়ের পাতার পাশাপাশি একাধিক গবেষকের লেখায় উঠে এসেছে এই বৌদ্ধ বিহারের কথা।

    ২০০২-০৩সাল নাগাদ খননের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ হয় মোগলমারি বৌদ্ধবিহারের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অশোক দত্তের নেতৃত্বে শুরু হওয়া স্থানটির খননকালে ৬ থেকে ১২ শতকের মধ্যে একটি বৌদ্ধ বিহারের উপস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে। নয়টি পর্যায়ে খনন কাজ হয়েছে দাঁতনের মোগলমারি বৌদ্ধ বিহারে। প্রথমের সাতটি পর্যায়ে খনন কাজের দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক অশোক দত্ত। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আধিকারিক প্রকাশচন্দ্র মাইতি। তাঁর তত্ত্বাবধানে দুটি পর্যায়ের খনন হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালের খননে ৯৫টি ব্রোঞ্জের মূর্তি, যার মধ্যে ২৫-৩০টি বুদ্ধমূর্তি ছাড়াও অন্যান্য মূর্তি পাওয়া যায়। বহু প্রত্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে মাটির নীচ থেকে।

    তবে এই মোগলমারির নেপথ্যে রয়েছে একাধিক ইতিহাস। চুন সুরকির দেওয়াল কিংবা বিভিন্ন ধরনের দেওয়ালে খোদিত মূর্তি এক একটি সময়ের ও এক একটি দেব-দেবতার ইতিহাসকে প্রকাশ করে। মোগলমারিতে ২০১১-১২ অর্থবর্ষে যে প্রত্নখনন হয়েছিল, সেই সময় মোগলমারিতে এই স্টাকো মূর্তিগুলি উন্মোচিত হয়। সমগ্র মহাবিহারের বাইরের দেওয়ালে এই স্টাকো মূর্তির অলঙ্করণ রয়েছে। তবে অধিকাংশ স্টাকো মূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে। শুধুমাত্র মধ্যভাগে ১৩-১৪ টি মূর্তি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ না হওয়ার জন্য সেগুলিও ধীরে ধীরে ধ্বংস হওয়ার পথে।

    তবে গবেষকরা এই সমস্ত মূর্তিগুলি দেখে তারা মতামত দিয়েছেন, এখানে অবলোকিতেশ্বর, মঞ্জুশ্রী, বজ্রযোগিনী-সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ দেবদেবীর মূর্তিগুলি রয়েছে। তবে বেশ কিছু মূর্তির এখনও সনাক্তকরণ করা সম্ভব হয়নি। গবেষকদের মতে, মহাবিহারের মূল আয়তন ৮০ মিটার বাই ৮০ মিটার। এই মহাবিহারের সম্পূর্ণ যে বাইরের দেওয়ালে এই মূর্তিগুলি দিয়ে অলঙ্করণ করা ছিল। এই মহাবিহার এবং এই স্টাকো সাধারণভাবে নালন্দা, সারনাথ, বিভিন্ন বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার বা মহাবিহারগুলিতে দেখা যায়।  কিন্তু সেগুলোতেও বিলীন হওয়ার পথে।

    ঐতিহাসিকদের অনুমান অনুযায়ী, এগুলি পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীর সময়কার। মোগলমারিতে যে বিহার এবং মহাবিহার এবং বিহারিকা পাওয়া গেছে, কেবলমাত্র মহাবিহারেই এই স্টাকো মূর্তির অলঙ্করণ রয়েছে। বিহারিকাতে কোনও স্টাকো মূর্তির অলঙ্করণ নেই। স্বাভাবিকভাবে শুধু মাটি খনন করে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি উন্মোচন নয়, দেওয়ালে খোদিত একাধিক মূর্তিও প্রকাশ করে ইতিহাসকে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)