রাজ্যে সরকার বদলাতেই কপাল খুলল মালদহের ২১৪ পরিবারে! কয়েক কোটির সরকারি সাহায্য, খুশিতে ডগমগ চাষিরা
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
: সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উন্মুক্ত অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২১৪ জন জমির মালিকের হাতে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হল। এই উদ্যোগে স্বস্তির মুখ দেখলেন বহু কৃষক পরিবার।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বেশ কিছু উন্মুক্ত অংশে কাঁটাতারের অভাব থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্তবর্তী কাঁটাতারহীন জমি সরকার নির্ধারিত মূল্যে অধিগ্রহণ করে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারও ১০ বিঘা, আবার কারও ১০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ অনুযায়ী মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সরকারি প্রাপ্য অর্থের চেক।
হবিবপুর ব্লকের জিতু মঞ্চে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হবিবপুর বিধানসভার বিধায়ক জয়েল মুর্মু, হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুখীরানী সাহা, হবিবপুরের বিডিও কৃষ্ণকান্ত মণ্ডল, বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকরা। স্থানীয় এক কৃষক রেনকা বলেন, “সীমান্তে কাঁটাতার হলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও অত্যাচারের আশঙ্কা কমবে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা জমি দিয়েছি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছয় লক্ষ টাকার চেক পেয়ে ভাল লাগছে।”
এবিষয়ে হবিবপুরের বিধায়ক জয়েল মুর্মু জানান, “মোট ২১৪ জন জমির মালিককে পাট্টা ও আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১৯ জন পাট্টা প্রদানকারী এবং ৯৫ জন জমির মালিক রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে কৃষকদের সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।” স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াবে না, পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ পেয়ে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে কৃষক পরিবারগুলিও। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কৃষকদের এই সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসন।