• গ্রেপ্তার হতেই প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ রাজগঞ্জের মানুষের
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সিনহা

    একের পরে এক গুরুতর অভিযোগ। তার পরেও জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকী স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ ওঠার পরেও তাঁকে ধরা যায়নি। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট আত্মসমর্পণ করতে বললেও সারেন্ডার করেননি, উল্টে ‘উধাও’ হয়ে যান। যদিও কখন তাঁকে মাছ বাজারে, কখনও তাঁকে গাড়ি নিয়ে উত্তরবঙ্গের পাহাড়েও দেখা গিয়েছে। সেই প্রশান্ত সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় এক পথচারীকে ‘ধাক্কা’ মেরে কলকাতার ইকো পার্ক থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। কিন্তু কেন এতদিন প্রশান্তকে গ্রেপ্তার করা গেল না, মারাত্মক সব অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে।

    জলপাইগুড়ির জেলা বিজেপির মুখপাত্র শ্যাম প্রসাদের বক্তব্য, ‘প্রশান্ত বর্মন ওই সরকারি চেয়ারে বসে সব রকম দুর্নীতি ও মাফিয়ার কারবার চালাতেন। শুধু তাই নয়, আমাদের কাছে খবর আছে উত্তরবঙ্গে কয়লা এবং সোনা পাচারের সঙ্গে এই ব্যক্তির হাত আছে।’

    বিজেপির মুখপাত্রের দাবি, ‘যে লোকটা শূন্য পেয়ে WBCS-এর মতো পরীক্ষা পাশ করেন, তাঁর পিছনে তৃণমূলের বড় নেতার হাত না থাকলে এটা হতে পারে না। সেই কারণেই পুলিশের চোখে ফেরার ছিলেন এই অপরাধী।’ যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি মহুয়া গোপেরও বক্তব্য, ‘এই প্রশান্ত বর্মন সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। এ ধরনের একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, এটা ভালো খবর।’

    স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের খাতায় ফেরার ছিলেন প্রশান্ত বর্মন। সোমবার রাতে নিউ টাউন এলাকা থেকে আটক করা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে বারাসত আদালতে তোলা হয়। এই খবরে দারুণ খুশি রাজগঞ্জের মানুষ। তাঁদের দাবি, ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বললেও তা করেননি। অথচ গত চার মাসে কখনও রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে, কখনও আবার শিলিগুড়ির শিব মন্দির এলাকায় বাজার করতে দেখা গিয়েছে প্রশান্তকে।

    রাজগঞ্জের বাসিন্দা তনুময় রায় বলেন, ‘ সমাজ মাধ্যমে ওই খবর দেখার পর খুব খুশি হয়েছি। মনে হয়েছে এতো দিনে একজন অপরাধী ধরা পড়ল। গত বছর আমার বাড়ি তৈরির কাজের সূত্র ধরে একাধিকবার বিডিও অফিসে যেতে হয়েছে। সেই সময়ে প্রশান্ত বর্মনের দুর্ব্যবহার নজরে পড়েছিল।’

    অন্যদিকে রাজগঞ্জের ঠিকাদার অমিত কর্মকার বলেন, ‘প্রশান্ত বর্মন বিডিও হয়ে আসার পর থেকেই কাজ নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে থাকে। তিনি স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজের টাকা আটকে রেখে বাইরে থেকে নিজের পছন্দের ঠিকাদার এনে কাজ করিয়ে নিতেন। তিনি বিডিও থাকাকালীন রাজগঞ্জ ব্লকে সরকারি কাজে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে।’

    মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পরে এ দিন প্রশান্তকে আদালতে তোলা হয়। এই খবরে দারুণ খুশি রাজগঞ্জ ব্লকের মানুষ। এমনকী তাঁর পরিচিতদেরও চোখে মুখে খুশির ছাপ।

  • Link to this news (এই সময়)