সৌমেন রায় চৌধুরী
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। ওই মামলায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন প্রশান্ত বর্মন। পরে তা বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ, প্রভাবশালী যোগ থাকায় গত সরকারের আমলে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়নি প্রশান্ত বর্মনকে। তার পর থেকে হঠাৎই ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান প্রশান্ত বর্মন। এর পর সোমবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার ইকো পার্ক থানা এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত। তখনই এক সাধারণ নাগরিক প্রশান্তকে চিনতে পেরে ফেসবুক লাইভ শুরু করেন। সেই সময়ে ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশও। সেই সময় ভিডিয়োতে দেখা যায়, প্রতিবাদী পথচারীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন প্রশান্ত। প্রতিবাদী পথচারীকে কুকথা বলতে, হুমকি দিতেও শোনা যায়। গাড়ি থেকে নেমে আসেন প্রশান্ত, কেন ভিডিয়ো করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ভিডিয়ো লাইভ বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্রের খবর, তার পরে প্রশান্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হয়।
এ দিন কড়া নিরাপত্তা ছিল বারাসত আদালতে। প্রথমে মুখ ঢেকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় প্রশান্তকে। পরে দেখা যায়, মুখ খোলা রেখেই কোর্ট লকআপ থেকে তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো সিজিএম আদালতে। এ দিন সওয়াল-জবাবের পরে আপাতত রায় রিজ়ার্ভ রাখে আদালত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণের ঘটনায় যে মামলা ছিল, তাঁকে সন্ধ্যা ৬টা অবধিও সেই মামলায় ট্যাগ করা হয়নি। এ দিন যে মামলায় তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছিল, তা ছিল মোটর ভেহিকেলস আইনের অধীনে জামিনযোগ্য ধারা। ফলে জামিন চেয়েছেন প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবী।
সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানা জানিয়েছেন, পুরোনো মামলার সঙ্গে বর্তমান মামলার কোনও যোগ নেই। এ দিন যে যে ধারায় মামলা উঠেছে, তা জামিনযোগ্য। এ দিন সওয়াল-জবাবের সময়ে প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ আদালতকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।