ক’দিন ধরেই এলাকায় দুর্গন্ধ বাড়ছিল। কিন্তু কোথা থেকে আসছে তা, কেউই বুঝতে পারছিলেন না। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী সেন্ট্রাল রোড এলাকায় একটি বাড়িতে ওই দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসী এবং পুলিশ থ! স্বামী বছর পচাত্তরের শক্তিপদ দেবনাথের পচাগলা দেহ নিয়ে প্রায় ১০ দিন কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মনীষা!
স্থানীয়েরা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না বৃদ্ধ দম্পতিকে। প্রথম দিকে তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্বও দেননি। পরে কয়েক দিন পর থেকেই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বার করে থাকায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। এর পর পুলিশ এবং এলাকাবাসীরা দরজা ভেঙে বাড়ি ঢুকে দেখেন, চিকিৎসক শক্তিপদবাবুর দেহ ঘরে পড়ে রয়েছে। আর তাঁর পাশেই রয়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন শিক্ষিকা বছর পয়ষট্টির মনীষা। আর সারা ঘরে ধূপের গন্ধ। অনুমান, ধূপ দিয়ে মৃতদেহের দুর্গন্ধ আটকানো চেষ্টা করেছিলেন মনীষা। এই ঘটনা মনে পড়িয়ে দিল সেই রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ড।
পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে টিটাগড় থানার পুলিশ। কী ভাবে শক্তিপদের মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে স্থানীয়দের বয়ানও। প্রতিবেশী পার্থ পোদ্দার বলেন, ‘ঘরের ভিতরে ধূপ বা সুগন্ধী জাতীয় কিছু ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই কারণে প্রথম দিকে দুর্গন্ধ বেরোয়নি বাইরে। পরে আর তা আটকানো যায়নি। আজ আমরাই পুলিশকে খবর দিই। তার পর পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখে এই কাণ্ড! আমাদের মনে হচ্ছে, মনীষাদেবীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের যতটা করার, আমরা তা করব।’