• প্রশান্ত বর্মনের জামিন মঞ্জুর করলেন বিচারক, আদালত ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৮টা। পরনে কালো টি-শার্ট, মুখে মাস্ক লাগিয়ে বারাসতের সিজিএম আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে এলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার রাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ইকো পার্ক থানার পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে প্রশান্তকে তোলা হয়েছিল বারাসতের সিজেএম আদালতে। অবশেষে সওয়াল জবাবের পরে ১ হাজার টাকার বেল বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেন বিচারক।

    স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে নাম জড়িয়েছিল প্রশান্তর। জানুয়ারিতে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার পর থেকেই গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। প্রায় পাঁচ মাস পরে সোমবার তাঁর দেখা মেলে নিউ টাউনে। সূত্রের খবর, একটি বারে দেদার মদ্যপান করে গাড়ি হাঁকিয়ে সিটি সেন্টার ২-এর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। তার পরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পথচারীরাই তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রাতভর থানায় আটক করে রাখার পরে এ দিন সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হয়।

    প্রশান্তর জন্যই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল আদালত চত্বর। পুলিশের গাড়ি থেকে তিনি যখন নামেন তখন তোয়ালে দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। কিন্তু পরে মুখ খোলা রেখেই কোর্ট লকআপ থেকে তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতে। তবে শুধু মাত্র ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট’-এই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছিল পুলিশ। পুরোনো মামলা অর্থাৎ স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনা তার সঙ্গে ‘ট্যাগ’ করা হয়নি।

    আর ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের’ যে যে ধারায় প্রশান্তর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার সব ক’টিই জামিনযোগ্য বলে জানিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানা। তিনি বলেন, ‘পুরোনো মামলার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। এ দিন যে যে ধারায় মামলা উঠেছে, তা জামিনযোগ্য।’ ফলে প্রশান্ত যে জামিন পাচ্ছেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। সওয়াল জবাব শেষে রায় ‘রিজার্ভ’ রেখেছিলেন বিচারক।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে সুপ্রিমকোর্ট প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও-র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল বিধাননগর কোর্ট। এদিন মোটর ভেইক্যালস আইনে গ্রেপ্তার হলেও বিধাননগর থানার পুলিশ কোর্টের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অর্ডার কপি বারাসত আদালতের বিশেষ কোর্টের বিচারকের কাছে জমা দিতে পারেননি। কারণ গরমের ছুটি ছিল। এর ফলে রাত ৮ টা পর্যন্ত রায়দন স্থগিত রেখেছিলেন বিচারক।

    ফলে পুরোনো মামলা ট্যাগ না হওয়ায় জামিন পেতে কোনও অসুবিধা হয়নি রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও-র। রাত ৮টা নাগাদ আদালত চত্বর ছেড়ে বেরতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। তবে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি প্রশান্ত। আগে থেকেই ক্যাব বুক করে রেখেছিলেন। সোজা গিয়ে ওঠেন তাতে। তার পরে আদালত চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান।

  • Link to this news (এই সময়)