নদিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কদের উপস্থিত থাকা নিয়ে রাজ্যে জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সেই একই ছবি দেখা গেল উত্তরবঙ্গেও। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ির উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে দল বেঁধে হাজির হলেন উত্তরবঙ্গের তৃণমূল বিধায়কেরা।
উত্তরবঙ্গে মোট বিধায়ক ৫৪। তার মধ্যে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ১৪। তাঁদেরই ১৩ জন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দেখা গিয়েছে তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, ইসলামপুরের কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং চোপড়ার হামিদুর রহমানকে। এ ছাড়াও ছিলেন হরিরামপুরের বিপ্লব মিত্র, কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডল, মালতিপুরের আব্দুর রহমান বক্সি, রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়, হরিশ্চন্দ্রপুরের মতিবুর রহমান, চাঁচলের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মোথাবাড়ির নজরুল ইসলাম, গোয়ালপোখরের গোলাম রব্বানি, চাকুলিয়ার মিনাজুল আরফিন আজ়াদ এবং ইটাহারের মোশারফ হোসেন।
পরে সাবিনা বলেন, ‘বৈঠকে কেন আসব না? এটা প্রশাসনিক বৈঠক। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।’ বৈঠকে ছিলেন কংগ্রেসের দুই বিধায়কও। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক পরে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দল আর প্রশাসনকে মিলিয়ে দেখি না। এটি ছিল প্রশাসনিক বৈঠক। সমস্ত বিধায়ককেই ডাকা হয়েছিল।’
উত্তরবঙ্গে এখন প্রাক-বর্ষা চলছে। এর মধ্যেই বৃষ্টিতে জেরবার ডুয়ার্স। প্রশাসনের হাতে রয়েছে আর মাত্র কুড়ি দিন। তার পরেই পুরোদমে বর্ষা শুরু হয়ে যাবে। তার আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার সেচ, এনডিআরএফ, বিএসএফ এবং এসএসবি-কে নিয়ে এই বৈঠক করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। বৈঠকে প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরেও একটি কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেচ এবং জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কাজ সেরে ফেলেছেন। আর সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলিও জোরকদমে চলছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, স্পর্শকাতর এলাকার বোল্ডার জড়ো করে রাখা, ত্রাণের খাবার, ত্রিপল, জরুরি ওষুধ এবং পানীয় জল মজুতের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, গত বছরের মিরিকের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে পাহাড়ে ধস এবং জলস্ফীতি মোকাবিলায় জিটিএ-সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করা হবে। ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন এবং মালদায় গঙ্গায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা হবে। আরও কয়েকটি নদীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বন্যা প্রবণতার জেরে ‘হটস্পট’ বলে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে এনডিআরএফ বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে। বিএসএফ এবং এসএসবি-র সাহায্য নেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক ভালো ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও বাংলায় কাজ করতে পারেনি। এ বার আর সেই সমস্যা নেই। ডাবল ইঞ্জিনের সরকারে দ্রুত কাজ হবে।’