• ‘একটা মানুষকে খুন করেও...’, প্রশান্তর জামিনের খবর শুনে কেঁদে ফেললেন মমতা
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • প্রশান্ত বর্মনের গ্রেপ্তারির খবরটা শোনার পর থেকে খুশিতেই ছিলেন। কিন্তু জামিন পেয়েছেন শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার স্ত্রী মমতা কামিল্যা। মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ প্রশান্তর জামিন মঞ্জুর করে বারাসতের সিজেএম আদালত। তার পরেই মমতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে এই সময় অনলাইন। খবরটা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। পরক্ষণেই কান্নায় ভেঙে পড়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী করে জামিন হলো? তিনি যে একটা মানুষকে খুন করেছেন।’ অবশ্য এখনও রাজ্য সরকারের উপরে আস্থা রয়েছে তাঁর।

    শুধু মাত্র ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট’-এই প্রশান্তর বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছিল পুলিশ। পুরোনো মামলা অর্থাৎ স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনা তার সঙ্গে ‘ট্যাগ’ করা হয়নি। আসলে ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের’ যে যে ধারায় প্রশান্তর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার সব ক’টিই জামিনযোগ্য। ফলে ছাড়া পেতে কোনও অসুবিধা হয়নি রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও-র। মমতা অবশ্য এত কিছু বোঝেন না। তিনি শুধু কাঁদতে কাঁদতে হাহাকারের মতো একটা কথাই বলে চলেছেন, ‘একটা মানুষকে খুন করার পরেও জামিন পেয়ে গেলেন? আমি এখন কী করে বাঁচব?’

    আতঙ্কে কার্যত সিঁটিয়ে রয়েছেন মমতা। গলাতেও তার রেশ, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঘর করি। রাতে যদি প্রশান্ত তার দলবল নিয়ে হামলা করে! আমি তখন কোথায় যাব? কী করব?’ মমতার মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। আর ছেলে এ বার মাধ্যমিক দেবে। আর আছে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর লোকের বাড়ি পরিচারিকার কাজ নিয়েছেন মমতা। সংসারটা তো চালাতে হবে! তবে স্বামীর মৃত্যুর বিচার তিনি রাজ্য সরকারের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। মমতার কথায়, ‘আমি গরিব মানুষ। কোথায় যাব? রাজ্য সরকারের উপরে আস্থা রয়েছে। ন্যায় বিচার পাবই।’

    মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগে প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তার করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, নিউ টাউনের একটি বারে দেদার মদ্যপান করে গাড়ি হাঁকিয়ে সিটি সেন্টার ২-এর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। তার পরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পথচারীরাই তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রাতভর থানায় আটক করে রাখার পরে এ দিন সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এই মামলার সঙ্গে স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনা ট্যাগ করা হয়নি।

    পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার দিলমাটিয়া গ্রামে বাড়ি ছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার। তবে ব্যবসার সূত্রে সল্টলেকের দত্তাবাদে থাকতেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর তাঁকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে। উত্তরবঙ্গে প্রশান্তর বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং সোনার গয়না চুরি গিয়েছিল। প্রশান্তর দাবি, স্বপন সেই সব চুরির জিনিস কিনেছিলেন। তার পরেই তাঁকে অপহরণ করে নিউ টাউনের এবি ব্লকের ৬৭ নম্বর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল প্রশান্ত ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। ২৯ অক্টোবর বাগজোলা খালপাড়ের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। নিহতের পরিবার বিডিও ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

    প্রশান্ত তৃণমূল সরকারের শীর্ষস্থানীয়দের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ। সেই জন্যই নাকি খুনের অভিযোগ উঠলেও যথাযথ পদক্ষেপ করতে টালবাহানা করেছে পুলিশ। অন্তত অভিযোগ এমনই। পরে আদালতের চাপে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই মামলা কলকাতা হাইকোর্ট ছাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিল। গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রশান্ত সেই নির্দেশও মানেননি। তিনি ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান। অবশেষে পাঁচ মাস পর সোমবার রাতে তাঁর খোঁজ মেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামিন পেয়ে গেলেন প্রশান্ত।

  • Link to this news (এই সময়)