• দ্রুত ভরে উঠছে মুর্শিদাবাদের ‘হোল্ডিং সেন্টার’
    আজকাল | ২৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এরাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি চালু হতেই মুর্শিদাবাদ জেলার হোল্ডিং সেন্টারটি দ্রুত ভরে উঠতে শুরু করেছে। লালগোলার বাহাদুরপুর এলাকার পদ্মা ভবনে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় আরও আট জনকে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে গত দু’দিনে ওই হোল্ডিং সেন্টারে মোটা ১১ জনকে এনে রাখা হয়েছে। বিএসএফের সাহায্যে খুব শীঘ্রই ধৃত এই বাংলাদেশি নাগরিকদের তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। 

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নির্দেশ দেন অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশের আর গ্রেপ্তার করার দরকার নেই। তার পরিবর্তে পুলিশ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। প্রতি সপ্তাহে কত জন বিদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে তার রিপোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। মুখ্যমন্ত্রীদের নির্দেশ পাওয়ার পরই রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে প্রত্যেক জেলায় একটি করে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে লালগোলার পদ্মা ভবনে  একটি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার ইতিমধ্যে কাজ করাও শুরু করে দিয়েছে।  সোমবার পর্যন্ত ওই হোল্ডিং সেন্টারে লালগোলা থেকে দু’জন এবং ভগবানগোলা থেকে ধরা পড়া একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। সোমবার রাতে ওই হোল্ডিং সেন্টারে আরও ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আনা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জলঙ্গি থানার পুলিশ বিধুপুর এলাকায় একটি অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাতজন বাংলাদেশী নাগরিককে পুলিশ আটক করে।  প্রশাসনের নির্দেশ মতো আটক ওই ৭ বাংলাদেশী নাগরিককে রাতেই লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঙ্গি থেকে আটক ৭ বাংলাদেশি নাগরিকই পুরুষ। এরা কয়েক বছর আগে কাজের সন্ধানে বেআইনিভাবে বাংলাদেশের দৌলতপুর এলাকা থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিল। 

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখানো শুরু করায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা ভয়ে নিজের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।  সোমবার  বাংলাদেশ ফেরত যাওয়ার সময় জলঙ্গীর বিধুপুর এলাকা থেকে ওই সাত জনকে পুলিশ আটক করে বলে জানা গিয়েছে। 

    অন্যদিকে, অপর একটি ঘটনায় সোমবার রাতে সুতি থানার পুলিশ মহলদারপাড়া এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে  লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্র্রের খবর, ধৃত ওই ব্যক্তির নাম সাইদুল ইসলাম। তার বাড়ি বাংলাদেশের শিবগঞ্জ থানার কালুপুর এলাকায়। গত কয়েক বছর ধরে  ওই ব্যক্তি সুতির মহলদারপাড়ায় থাকছিলেন বলে জানা গিয়েছে। 

    সূত্রের খবর, সাইদুল সুতি থানা এলাকার এক মহিলাকে বিয়ে করে সেখানে সংসার পেতেছিলেন। যদি ওই ব্যক্তি দিল্লি, মুম্বই-সহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে গত কয়েকদিন আগে সাইদুল মুর্শিদাবাদের সুতিতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকেই তাকে আটক করে সোজা লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়।

    বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, “এটা তো আরও আগে হওয়ার ছিল। বহুদিন ধরে বলা হয়েছে যারা এদেশের নাগরিক নন তারা নিজের দেশে ফিরে চলে যান। ভোটার তালিকায় একপ্রস্ত ‘বেআইনি’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আমাদের এখন এটাই দেখার ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’দের হয়ে কারা কারা কাঁদছে। ভারতের নাগরিক, যাঁদের বৈধ সমস্ত নথিপত্র রয়েছে তাঁদের কোনও চিন্তার কারণ নেই।”
  • Link to this news (আজকাল)