• ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ, কপালে জুটল মহিলাদের জুতোর বাড়ি
    আজকাল | ২৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে প্রভাব খাটানোর চেষ্টার অভিযোগ। আর তার জেরেই হাসপাতালের মহিলা কর্মীদের চরম ক্ষোভের মুখে পড়তে হল এক হাসপাতাল কর্মীকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অভিযুক্ত কর্মীকে জুতোপেটা পর্যন্ত করেন উত্তেজিত মহিলারা। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়া চিলড্রেন হাসপাতাল। মহিলাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা অত্যাচারের পাল্টা হিসেবেই এই মারধর বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। শেষ পর্যন্ত হাওড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত কর্মীর নাম প্রসেনজিৎ হাজরা। তিনি হাওড়া চিলড্রেন হাসপাতালের বিলিং বিভাগের কর্মী হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় স্তরে তিনি মধ্য হাওড়ার ক্ষমতাশালী বিধায়ক অরূপ রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। অভিযোগ, এই রাজনৈতিক প্রভাবকে হাতিয়ার করেই দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের, বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের ওপর মানসিক অত্যাচার, কাজের চাপ দেওয়া দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি সময় মতো বেতন না দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের দাবি তাঁদের দু’মাসের বেতন এখনও বাকি।  এদিন হাসপাতালের অন্য কর্মীদের সঙ্গে কোনও একটি বিষয় নিয়ে প্রসেনজিতের তুমুল বচসা বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তর্কাতর্কির মাঝেই নিজেকে অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে অন্যান্য কর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটান  বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। 

    বিধায়কের নাম ভাঙিয়ে এই দাদাগিরি মেনে নিতে পারেননি হাসপাতালের কর্মীরা।  অরূপ রায়ের নাম উচ্চারণ করতেই প্রতি ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রসেনজিতের ওপর চড়াও হন মহিলারা। হাসপাতালের ভিতরে তাঁকে মহিলা কর্মীরা জুতোপেটা করতে থাকেন। মহিলাদের স্পষ্ট দাবি, “অন্যায় আর সহ্য করা হবে না। বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ নিয়ে এতদিন ধরে মহিলাদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছে, আজ তারই যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে।” তাঁদের দাবি, মানসিকভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে, কাজের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, সময় মতো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এখনও দু’মাসের বেতন বাকি। 

    হাসপাতাল চত্বরে এমন নজিরবিহীন মারধরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া থানার পুলিশ। কর্মীদের হাত থেকে কোনও ক্রমে প্রসেনজিৎ হাজরাকে পুলিশ উদ্ধার করে। 

    উল্লেখ্য, এই চিলড্রেন হাসপাতাল যখন প্রথম তৈরি হয়েছিল, তখন এর দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাওড়া পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তথা বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক সুজয় চক্রবর্তী। কিন্তু পরবর্তীতে এক অজ্ঞাত কারণে দলের প্রভাব খাটিয়ে সুজয় চক্রবর্তীকে সরিয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় চিকিৎসক নিশিথরঞ্জন চৌধুরীর ওপর। ডাক্তার পরিবর্তনের পর থেকেই হাসপাতালের অন্দরে এক ধরণের চোরা উত্তেজনা ও দলীয় প্রভাব খাটানোর রাজনীতি দানা বাঁধছিল বলে কর্মীদের একাংশের অভিযোগ। আর তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটল এদিনের এই প্রসেনজিৎ-নিগ্রহের ঘটনায়।
  • Link to this news (আজকাল)