আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউটাউনের ভগীরথী নেওটিয়া উওম্যান ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার-এ চালু হল নতুন ‘চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ (সিডিসি)। শিশুদের বিকাশজনিত, স্নায়বিক এবং আচরণগত সমস্যার চিকিৎসার জন্য এই বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
কেন্দ্রটির উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইন্দ্রাশিস রায় চৌধুরী, ডা. দেবপ্রিয়া রায় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল। বর্তমানে দেশে স্নায়ুজনিত ও বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাইরে সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ এখনও সীমিত। সেই প্রয়োজন থেকেই এই সিডিসি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে সদ্যোজাত থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য একই ছাদের তলায় রোগ নির্ণয়, থেরাপি, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
এই কেন্দ্রে শিশু বিশেষজ্ঞ, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিদ, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট এবং বিশেষ শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে কয়েকটি বিশেষ দল কাজ করবে। শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক বিভাগে চিকিৎসা ও থেরাপির সুবিধাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব শিশু পড়াশোনায় বা আচরণগত সমস্যায় ভোগে, তাদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
পার্থিব নেওটিয়া, অম্বুজা নেওটিয়া হেল্থকেয়ার ভেঞ্চার লিমিটেডের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, “শিশুদের বিকাশের জন্য শুধু অস্থায়ী চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিচর্যা। চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, যেখানে চিকিৎসা, থেরাপি, পুনর্বাসন এবং পরিবারের অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ পূর্ব ভারতে বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
নেওটিয়া ভাগীরথী মহিলা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় কলকাতার স্বাস্থ্যর এক বিশ্বস্ত আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠান ভীষণ যত্নশীল পরিবেশের মধ্যে শিশু ও শিশুদের মায়েদের এবং মহিলাদেরকে রাখেন। এই হাসপাতালটি শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবাই প্রদান করে না, পাশাপাশি শিশু ও নারীর জন্য সমবেদনাও প্রকাশ করে থাকে।
শিশু ও নারীদের জুন্য দীর্ঘ স্বাস্থ্যসেবা, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি এই লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠাতাদের দূরদর্শীতার কারণে, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার পাশাপাশি সহানুভূতী ও যত্নও মিলেমিশে গিয়েছে। ফলে আরোগ্যর জন্য একটি যত্নবান পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি মানবিক যত্ন ও সহানুভূতির জন্য এই হাসপাতাল শহরের বহু পরিবারের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে।