• কেন চারতলার পারমিশনে দেদার ৬-৭ তলা ফ্ল্যাটবাড়ি? সত্যিটা জানালেন দুঁদে প্রোমোটার
    আজ তক | ২৭ মে ২০২৬
  • নামছে বুলডোজ়ার। ভাঙছে একের পর এক বেআইনি বহুতল। কোথাও চারতলার অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ছ’তলা, কোথাও আবার সাততলা ফ্ল্যাটবাড়ি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযান জারি। প্রশ্ন উঠছে, এত দিন ধরে কীভাবে চলছিল এই ‘অবৈধ প্রোমোটিং সাম্রাজ্য’? কেনই বা চারতলার অনুমতিতে দেদার ৬-৭ তলা বহুতল উঠে গিয়েছে? কিছুটা আভাস দিলেন কলকাতার উপকণ্ঠের এক দুঁদে প্রোমোটার।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রোমোটারের দাবি, 'এখন কলকাতার লাগোয়া ভাল এলাকায় ২ কাঠা জমি কিনতেই প্রায় এক কোটি টাকা লাগে। তার পরে ৪-৫ তলার একটি ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি করতে আরও ৬৫ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তার উপর পুরনো বাড়ি হলে বাড়ি মালিককে কোথায় বাড়ি ভাড়া করে রাখতে হয় এক দেড় বছর ধরে। একটু স্টাইলিশ কাজ করলে সেই খরচ ৮০ লক্ষও ছুঁয়ে যায়।'

    তাঁর বক্তব্য, একটি মাঝারি মানের বহুতলের সব ফ্ল্যাট বিক্রি করে মোটামুটি ২ কোটি টাকার মতো আয় হয়। কিন্তু সেই পুরো টাকাই প্রোমোটারের হাতে আসে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জমির মালিকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প তৈরি হয়। জমির মালিক নগদের পাশাপাশি এক বা একাধিক ফ্ল্যাটও নিয়ে নেন। সাধারণত সবচেয়ে ভাল, দক্ষিণমুখী ফ্ল্যাটই তাঁরা বেছে নেন।

    ফলে শুরু থেকেই লাভের অঙ্ক কমে আসে। যদিও তাতেও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মতো মুনাফা থাকে বলে দাবি ওই প্রোমোটারের। কিন্তু তাঁর কথায়, 'এখানেই শুরু আসল সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরাও টাকা দাবি করেন। সেটা দেওয়ার পরে লাভের পরিমাণ আরও কমে যায়।'

    আর সেই কারণেই অতিরিক্ত লাভের আশায় বহু প্রোমোটার বেআইনি পথে হাঁটেন বলে দাবি তাঁর। কখনও অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে আরও এক বা দু’টি তলা তুলে দেওয়া হয়। আবার কোথাও নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা না রেখেই বাড়ানো হয় কার্পেট এরিয়ার পরিমাণ। অর্থাৎ বেশি স্কোয়ার ফিট বানিয়ে বেশি টাকা আয়ের চেষ্টা চলে।

    ওই প্রোমোটারের দাবি, 'টাকা ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেলে অনেক সময় রাজনৈতিক মদতও পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকে বেআইনি নির্মাণ।'

    রাজ্যজুড়ে এখন যে ভাবে একের পর এক বহুতল ভাঙা হচ্ছে, তাতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রোমোটার মহলেও। তবে নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকেরই মত, শুধু বুলডোজ়ার চালালেই সমস্যার সমাধান হবে না। বেআইনি নির্মাণের পিছনে থাকা আর্থিক ও রাজনৈতিক যোগসাজশও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, দাবি প্রোমোটারের। 
  • Link to this news (আজ তক)