• উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় বড় ভাঙন, একসঙ্গে ১৫ কাউন্সিলরের পদত্যাগে চাঞ্চল্য
    আজ তক | ২৭ মে ২০২৬
  • উত্তর ব্যারাকপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একসঙ্গে ১৫ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পদত্যাগ করেছেন পুরপ্রধান মলয় ঘোষও। ফলে দীর্ঘদিনের শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই পুরসভাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।

    ২০১০ সাল থেকে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা কার্যত তৃণমূলের দখলে ছিল। সংগঠন, প্রশাসন এবং কাউন্সিলর স্তরে শক্ত ভিত থাকায় এলাকাটি শাসকদলের “নিরাপদ এলাকা” বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টিতে তৃণমূলের পরাজয় ঘটে, যা দলীয় সংগঠনের ভিত নাড়িয়ে দেয়।

    এরপরই একে একে কাউন্সিলরদের পদত্যাগ শুরু হয়। যদিও তাঁদের দাবি, এটি “নৈতিক দায়” নিয়ে পদত্যাগ, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বিষয়টি শুধুমাত্র নৈতিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চাপ।

    সূত্রের খবর, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত সিদ্ধান্তের অংশ। যারা এখনও পদত্যাগ করেননি, তাঁরাও শিগগিরই একই পথে হাঁটতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। ফলে পুরসভা কার্যত ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    পুরপ্রধান মলয় ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের নৈতিক দায় নিয়েই তিনি পদত্যাগ করছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে একদিকে দায়িত্বশীলতা হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের “নৈতিক দায়” নিয়ে একসঙ্গে এতজন জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ আগে কখনও দেখা গেছে কি না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে বিজেপির উত্থান। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাতেও বিরোধীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ফলে সংগঠনের ভেতরে চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, মানুষ যাঁদের ভোট দেয়নি, তাঁরাই এখন পদত্যাগ করছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি শাসকদলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ারই ইঙ্গিত।

    এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যদি আরও কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন এবং পুরসভা কার্যত অচল হয়ে পড়ে, তাহলে প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, উত্তর ব্যারাকপুরের এই ঘটনা শুধু একটি পুরসভার সংকট নয়, বরং রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। কারণ একসঙ্গে এত সংখ্যক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ সাধারণত কোনো বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার লক্ষণ হিসেবেই ধরা হয়।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, এটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস ও আত্মসমালোচনার অংশ। তবে বাস্তব পরিস্থিতি যে সহজ নয়, তা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট।

    এখন নজর থাকবে আগামী দিনে আরও কোনো পদত্যাগ হয় কি না এবং উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়। কারণ এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

    রিপোর্টারঃ তপন মণ্ডল

     
  • Link to this news (আজ তক)