রাস্তা ও ফুটপাত আটকে চলবে না মঙ্গলাহাট, ব্যবসায়ীদের ডেকে নির্দেশ পুলিশের
প্রতিদিন | ২৭ মে ২০২৬
মঙ্গলবার শর্তসাপেক্ষে মঙ্গলাহাটের (Mangalahat) ব্যবসায়ীদের রাস্তা এবং ফুটপাতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পুলিশ বসতে দিলেও হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে এদিন হাট ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী সপ্তাহ থেকে কোনওভাবেই মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ীরা রাস্তা ও ফুটপাতে বসতে পারবেন না। ব্যবসা করতে পারবেন শুধুমাত্র হাট বিল্ডিংয়ের ভিতরে বসে। কোনওভাবেই রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করা যাবে না। পুলিশ সূত্রে খবর, এর পরও আগামী সপ্তাহে সোম ও মঙ্গলবার যদি হাট ব্যবসায়ীরা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে জামাকাপড় বিক্রি করেন তাহলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইতিপূর্বেই আইনি পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার বেআইনিভাবে রাস্তা দখল করে মঙ্গলাহাটে বসার জন্য ওদিন রাতে ৪ জন হাট ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া থানার পুলিশ। এর সঙ্গে প্রচুর বস্তা বোঝাই জামাকাপড় বাজেয়াপ্ত করা হয়। বেআইনিভাবে ব্যবসায়ীরা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করলে আগামীদিনেও এমনটা করা হবে বলে পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে মঙ্গলবার আরও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আর কোনওদিনই হাওড়া ময়দান চত্বরে মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা রাস্তা কিংবা ফুটপাত দখল করে জামাকাপড় নিয়ে বসতে পারবেন না।
এই প্রসঙ্গে হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতি সেন্ট্রালের সভাপতি মলয় দত্ত বললেন, ‘‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা হাটে ব্যবসা করব। কিন্তু কখনও সাধারণ মানুষের চলাচলের অসুবিধা করে আমরা ব্যবসা করব না। রাস্তা দখল করে জামাকাপড় বিক্রি করবে না ব্যবসায়ীরা।’’
হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতে আর পসরা নিয়ে বসতে পারবেন না মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা। সোমবারই মঙ্গলাহাটের (Mangalahat) ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের হাওড়া থানায় ডেকে একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। অর্থাৎ হাওড়া ময়দান চত্বরে হাওড়া পুরসভা ও জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে মহাত্মা গান্ধি রোড, হাওড়া জেলা হাসপাতাল, হাওড়া আদালত ও এসডিও দপ্তরের সামনে ঋষি বঙ্কিম সরণী, হাওড়া থানার সামনে নিত্যধন মুখার্জি রোড, হাওড়া গার্লস কলেজের সামনে চার্চ রোডের মতো রাস্তায় কিংবা হাওড়া ময়দান চত্বরের রাস্তা বা ফুটপাতে আর মঙ্গলাহাটের কাপড়ের ব্যবসায়ীরা জামা-কাপড় নিয়ে বসতে পারবেন না।
শুধু তাই নয়, মঙ্গলাহাটের বিল্ডিংগুলো থেকে দিনের ব্যস্ত সময় মাল লোডিং-আনলোডিং করা যাবে না। রাস্তা ও ফুটপাতে বসলে এবার গ্রেপ্তারের মতো কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার আরও স্পষ্ট ভাষায় হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, হাট বিল্ডিং বাদ দিয়ে মঙ্গলাহাটে সারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জামা কাপড়ের ব্যবসায়ীরা যাঁরা রাস্তা কিংবা ফুটপাতে বসেন তাঁদের সংখ্যাটা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। এঁরা বিক্রেতা এঁদের সঙ্গে জামা-কাপড় তৈরি-সহ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ। মঙ্গলাহাটে রাস্তা ও ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীরা ছাড়াও এখানে থাকা ১৪টি বিল্ডিংয়েও প্রচুর পাইকারি ও খুচরো জামাকাপড় বিক্রেতা রয়েছেন। যুগ যুগ ধরে হাওড়া ময়দান চত্বরে চলে আসছে এই মঙ্গলাহাট।